প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই জয় এনে দিলো সাদমান
প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই জয় এনে দিলো সাদমান
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২৬ ২০:৩৫:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+


অভিষেক ম্যাচ বলে একটু নার্ভাস থাকার কথা ছিল সাদমান ইসলামের। ঢাকা ডায়নামাইটসের ভাগ্য ভালো বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান এসব নার্ভাসনেসের ধার ধারেন না। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেই দলকে জয় এনে দিয়েছেন সাদমান। সাদমানের ব্যাটে চড়েই ব্যাটসম্যানদের ‘বধ্যভূমি’তে পরিণত হওয়া মিরপুরে সাঙ্গাকারার দল জিতল ৬ উইকেটে।

দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্স-সিলেট সুপারস্টারসের ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের থরহরিকম্প দশা দেখে অনুমান করা হচ্ছিল, উইকেটের চরিত্র ঠিক থাকলে রাতের ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের আরও বড় দুর্ভোগই অপেক্ষা করছে! অনুমান আংশিক সত্য হলো। রাতের ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের ব্যাটসম্যানরা কাঁপলেন, তবে ঢাকা ডায়নামাইটসের সবাই নয়! ম্যাচের ফল তাই ঢাকার পক্ষেই।

নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে দলের ‘ডায়নামাইটস’ নামের সার্থকতা প্রমাণ করতে পারেননি ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। এ ম্যাচে খোলস থেকে বেরিয়ে এলেন তাঁরা। চিটাগংয়ের দেওয়া ৯৩ রানের লক্ষ্য ঢাকা পেরিয়ে গেল ১৭ বল হাতে রেখেই।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পা হড়কানোর উদাহরণ হামেশা মিলছে এবার বিপিএলে। তবে ঢাকা ভুল করেনি। সাবলীলভাবেই এগোলেন দুই ওপেনার সৈকত আলী ও সাদমান। উদ্বোধনী জুটিতে এল ৪৫। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৩ রান যোগ করে কাজটা এগিয়ে নিলেন সাদমান-নাসির। নিঃসন্দেহে ঢাকার সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ সাদমান। ভুল হলো, সাদমানে উজ্জ্বল ঢাকা! প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেই বাজিমাত ২০ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনারের। করলেন ৪৭ বলে ৪৫ রান।

নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে ইনিংস প্রতি গড়ে ১৮১ রান করা চিটাগংয়ের ব্যাটিং অদ্ভুত ছন্নছাড়া দেখাল। তিলকরত্নে দিলশান ২০, ইয়াসির আলী ১৪ ও নাঈম ইসলামের অপরাজিত ২৯-চিটগাংয়ের ইনিংসকে এক বাক্যে বললে এটাই দাঁড়ায়। বাকি আটজন মিলে যে করেছেন ২১!

শুরুটা আবুল হাসান ও ফরহাদ রেজা করলেও চিটাগংয়ের আসল সর্বনাশ করেছেন নাসির হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান। দুজনের ‘ঘূর্ণি বিষে’ নীল হয়েছে চিটাগং! অফস্পিনে নাসির পেয়েছেন ১২ রানে ৩ উইকেট। একের পর এক কাটারে নাকাল করে ১৪ রানে মুস্তাফিজও পেয়েছেন ৩ উইকেট। কাটারকে যেভাবে নিখুঁত শিল্পে পরিণত করছেন, মুস্তাফিজের গায়ে ‘কাটার মাস্টার’ তকমাটা বুঝি লেগেই গেল!

এরপরই ব্যাটিংয়ে সাদমানের ম্যাচ জয়ী সেই ইনিংস। অবশ্য অভিষেকে দল জেতানোর পাঠ নেওয়ার জন্য মুস্তাফিজের মতো ভালো এক সঙ্গী কেই তো দলে পাচ্ছেন সাদমান!

সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগং ভাইকিংস: ১৮.৪ ওভারে ৯২ (তামিম ১, দিলশান ২০, এনামুল ১, ইয়াসির ১৪, নাঈম ২৯ *, আমির ২, মেন্ডিস ১, জিয়াউর ৯, শফিউল ১, এনামুল জুনিয়র ২, আজমল ৪; রেজা ১ / ৭, হাসান ১ / ১৪, মুস্তাফিজুর ৩ / ১৪, মোশাররফ ১ / ১৮, ইয়াসির ১ / ২৬, নাসির ৩ / ১২)

ঢাকা ডায়নামাইটস: ১৭.১ ওভারে ৯৬ / ৪ (সৈকত ২৩, সাদমান ৪৫, জামশেদ ১২, নাসির ২, হাসান ৫*, সাঙ্গাকারা ৫*; আমির ০ / ১৬, আজমল ০ / ১২, শফিউল ১ / ২৩, এনামুল জুনিয়র ০ / ১৩, দিলশান ০ / ২৪, নাঈম ৩ /৭)।

ফল: ঢাকা ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাদমান ইসলাম

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর