বেতন বৃদ্ধিতে বৈষম্যে টেলিটক
বেতন বৃদ্ধিতে বৈষম্যে টেলিটক
শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন
২০১৬-১০-০৯ ১৭:৪৯:০৫
প্রিন্টঅ-অ+


টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ, বাংলাদেশ একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর। ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ১১ বছর পরও বারবার তাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। কখনো সেবা দিয়ে, কখনো নিজেদের যোগ্যতার, কখনো অল্প জনবল দিয়ে লক্ষ্য মাত্র অর্জনের। এই টেলিটক বাংলাদেশ আছে বলেই আজ বিদেশী বুর্জোয়া কোম্পানীগুলো নিয়ন্ত্রণে, ৭ টাকা মিনিট কল রেট এর সেই ভয়ানক অবস্থা থেকে আমরা উঠে এসেছি শুধু মাত্র অল্প জনবল নিয়েও সমুদ্রসম আত্মবিশ্বাস রাখা টেলিটকের দক্ষ জন বলের জন্য। কিন্তু টেলিটকের এই খেটেখাওয়া জনবল, যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিনিত সংগ্রাম করে যাচ্ছে, তারাই বারবার হচ্ছে অবহেলিত। নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য বারবার তাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন ২০১৫ এর জুন থেকে ১০০ ভাগ বৃদ্ধি ঘোষণা দেন এবং সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তা কার্যকর করলেও সরকারের একমাত্র মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর করা হয়নি। এব্যপারে টেলিটকের উপ-ব্যবস্থাপক ও টেলিটকের এমপ্লয়ীদের সংগঠন “টেলিটক এমপ্লয়ীজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (টেওয়া)” এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান এর সাথে কথা বলে জানা যায় – অন্যান্য সরকারি মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠান এর এন্ট্রি প্রকৌশলীদের পদে শুরু থেকে ২৫০০০ টাকা মূল বেতন দেয়া হলেও টেলিটকে দেয়া হয় ১৭০০০ টাকা তাও আবার ২০১১-১২ তে আন্দোলনের পর, যেখানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রথম থেকেই টেলিটকের চেয়ে বেতন এর দিক দিয়ে এগিয়ে আর সেখানে এখন ১০০% বেতন বৃদ্ধিতে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে টেলিটকের বেতন কাঠামোর বৈষম্য আরো বৃদ্ধি পাবে, তাই ১০০ ভাগ বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈষম্যদূর করার লক্ষ্যে “টেলিটক এমপ্লয়ীজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (টেওয়া)” এর মাধ্যমে টেলিটকের স্টাফগণ ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় এর কাছে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন, ২০১৬ এর ১৮ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় ৩১ মার্চ ২০১৬ এর মধ্যে সবার দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন। পরবর্তীতে ৮ই মার্চ ২০১৬ তারিখে টেলিটকের রিব্র্যান্ডিং ও নতুন লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় টেলিটকের স্টাফদের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় এর স্বদিচ্ছা ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের ঘোষণা স্বত্বেও কোন উদ্যোগ গ্রহণ না হওয়ায় ১৬,১৬,১৮ জুলাই ২০১৬ তারিখে সকল অফিসে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় এর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ৩১ শে জুলাই ২০১৬ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। কিন্তু ৩১শে জুলাই ২০১৬ তারিখে কোন সমাধান না হওয়ায় আবারো ০১ আগস্ট “বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচী” পালিত হয়। ০২ আগস্ট ২০১৬ “টেলিটক পে-কমিটি”র মাননীয় চেয়ারম্যান এর আশ্বাসে প্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলন স্থগিত করা হয় এবং জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য ১৫ই আগস্ট এর পর ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দাবী বাস্তবায়নের চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেয়া যায়। ১৮ আগস্ট টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়, ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে টেওয়ার নেতৃবৃন্দ পূর্বঘোষিত ১৭ ও ১৮ আগস্ট এর কর্মসূচী স্থগিত করে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ এর উদাসীনতার প্রেক্ষিতে টেলিটকের সকল স্টাফ ২১শে আগস্ট থেকে কর্মবিরতিতে যায়।

এমতাবস্থায় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় “টেলিটক এমপ্লয়ীজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (টেওয়া)” এর প্রতিনিধিদের আন্দোলন থামিয়ে ওনার সাথে দেখা করতে বলেন। টেওয়া নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ২৩শে আগস্ট ২০১৬ তারিখ দুপুর ২.৩০ শে ওনার কার্যালয়ে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় সহকারী ব্যবস্থাপক পর্যন্ত ১০০%, উপ-ব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক পদে ৮০% এবং ডিজিএম থেকে এমডি পর্যন্ত ৫০% বেতন বৃদ্ধি করার ব্যপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যা তিনি টেলিটকের চেয়ারম্যান তথা সচিব মহোদয়কেও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

কিন্তু গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬তে অনুষ্ঠিত টেলিটকের পরিচালনা পর্ষদের ১৫৫ তম সভায় টেলিটকের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যার কার্যবিবরণী গত ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়। কার্যবিবরণী থেকে এমপ্লয়ীরা জানতে পারে সকল স্তরে মূল বেতন ৫০% বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যাতে করে এমপ্লয়ীদের বেতন-ভাতা গড়ে ২৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে এবং যা ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে কার্যকর হবে।

টেওয়ার সভাপতি ও টেলিটকের উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু রায়হান মোঃ আল কাউসার বলেন, যেহেতু গৃহীত সিদ্ধান্ত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এর প্রদত্ত সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত, তাই টেলিটকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বরাবর আবারও স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং সেই সাথে ০২ রা অক্টোবর ২০১৬ তারিখে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহবান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় বরাবর চিঠি প্রদান করা হয়েছে।

তাছাড়া টেলিটকের ২৫০ জন প্রকৌশলী ০৬ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশের সার্ভিসেস এন্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির ২৩৬ তম বর্ধিত সভায় উপস্থিত হয়ে প্রকৌশলীদের সংগঠনকে টেলিটকের সার্বিক বিষয়াদি অবহিত করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর