ফের দল গোছাচ্ছে পলাতক জঙ্গিরা
ফের দল গোছাচ্ছে পলাতক জঙ্গিরা
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-১০-০৪ ০৭:০৪:৫২
প্রিন্টঅ-অ+


মুক্তমনা লেখক, ব্লুগার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদেশি নাগরিক ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযানেও দমেনি জঙ্গিরা। সম্প্রতি তাদের হাতে ১১ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৪৮ জন খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গি ধরা পড়েছে। নিহত হয়েছে অনেক জঙ্গি। তবুও পলাতক জঙ্গিরা হাল ছাড়েনি। কৌশল বদলে গোপনে দল গোছানো ও অস্ত্র সংগ্রহের কাজ করছে তারা। মূলত, তারা এখনো তাদের চেনা ‘ইসলামী বিপ্লবের জন্য জিহাদের’ পথেই হাঁটছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, অনেক জঙ্গি আটক হয়েছে। অনেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরপরও পলাতকরা তাদের পথেই হাঁটছে। তারা পথ পরিবর্তন করেনি। তাদের পেছনে অনেক অর্থ ও উসকানি রয়েছে। তারা গোপনে সংগঠিত হওয়া এবং নাশকতার পরিকল্পনা করছে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) এডিসি ছানোয়ার হোসেন বলেছেন, জঙ্গিরা এমনিতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পলাতক ৫-৭ জন মিলে গোপনে দল গোছানোর কাজ করছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের কারণে সক্রিয় জঙ্গিদের সংখ্যা কমে গেছে। তাদের সংখ্যা এখন হাতেগোনা মাত্র। তবে তারা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।

র‌্যাব সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, জঙ্গিরা নির্মূল হয়নি বলেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জঙ্গি মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, আটক জঙ্গিরা রিমান্ডে নানা রকম তথ্য দিয়ে আসছে। প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের মগজ এমনভাবে ধোলাই করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই তারা সহজপথে ফিরতে পারছে না। তাদের চিন্তা-চেতনায় বেহেশতে যাওয়ার পথ হিসেবে ইসলামী বিপ্লবের জন্য ‘জিহাদ’ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যেসব জঙ্গি সুযোগ পাচ্ছে তারাই সাংগঠনিক কাজ করছে। অবস্থান তৈরি করতে দল গোছানো তাদের লক্ষ্য। নিউ জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ব্যানারে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার আগাম খবর রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর ৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী, টাঙ্গাইলে হিন্দু দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় এবং গতবছর আশুলিয়া ও গাবতলীতে পুলিশ হত্যা, দিনাজপুরে ইতালীয় এক পাদ্রীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনাতেও হামলাকারী ছিল ৩ জন। ঘাতকরা হামলার সময় মোটরসাইকেলে আসে এবং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চাপাতি কিংবা ধারালো ছুরি। তবে দু’একটি ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জেএমবির ৩ শীর্ষ নেতা রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ, জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান ও সালাউদ্দিন ওরফে সানিকে ছিনিয়ে নেয় সংগঠনটির সদস্যরা। এ জঙ্গি হামলায় ১ পুলিশ সদস্য নিহত ও অপর ৩ পুলিশ আহত হন। গতবছরের ২২ অক্টোবর গাবতলীতে জঙ্গি হামলায় নিহত হন পুলিশের এএসআই ইব্রাহীম। আর ৪ নভেম্বর আশুলিয়ার বাড়ইপাড়ায় চেকপোস্টে জঙ্গি হামলায় ১ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরো ২ জন। এতকিছুর পর ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান, কিশোরগঞ্জের শোলাাকিয়া, ঢাকার কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিং, মিরপুর রূপনগর, আজিমপুর ও নারায়ণগঞ্জে অভিযানে ২১ জঙ্গি নিহত হয়। কিন্তু এখনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক নির্মূল হয়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন।

অপর একটি সূত্রমতে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারত ও মায়ানমার থেকে জঙ্গিদের বোমা ও গ্রেনেড বানানোর উপকরণ বাংলাদেশে আসে। জঙ্গিদের কাছে হাতে তৈরি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি) হ্যান্ডমেইড গ্রেনেড, একে-২২ রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল রয়েছে। সম্প্রতি একাধিক আস্তানায় অভিযানে এমন অস্ত্র তাদের কাছে পাওয়া গেছে। ২০০৯ সালের পর থেকেই জঙ্গিরা এই হ্যান্ডমেইড গ্রেনেড তৈরি শুরু করে। নিষ্ক্রিয় করা হ্যান্ডমেইড গ্রেনেডগুলোতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, টাইমার সার্কিট, ডেটোনেটর, রিলিজ সুইচ, পেনসিল ব্যাটারি ও পাইপ ছিল। বিস্ফোরণের পর পাইপ ফেটে স্পিøন্টার হিসেবে কাজ করে।

র‌্যাবের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব জঙ্গিদের কাছ থেকে ৩৯৯টি গ্রেনেড, বোমা ও ককটেল উদ্ধার করেছে। গ্রেনেডের খোলস (বডি) জব্দ করেছে ৬২৪টি। গ্রেনেডে ব্যবহার করার জন্য মজুদ রাখা বিভিন্ন ধরনের ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে ৯ হাজার ১৮৮টি। অস্ত্র ও গুলি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কেজি। এরপরও জঙ্গিদের সংগ্রহে আরো অস্ত্র বিস্ফোরক আছে এমন খবর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফিচার এর অারো খবর