সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর-এর সাথে কিছু সময়
সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর-এর সাথে কিছু সময়
২০১৬-১০-০৩ ০৭:০০:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


মন্ত্রীদের নানা কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। এই ব্যস্ততার মাঝেও আজ কিছু সময়ের জন্য একান্ত সান্নিধ্যে পেয়ে গেলাম আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে। তিনি অনেক স্মৃতিচারণ করলেন। শুনলাম। প্রশ্ন করেও জানা হল অনেক কিছু। তা থেকে কিছু অংশ আজ তুলে ধরছি তাঁর ভাষাতেই-

‘সবকিছু এগোয় আর আমরা কী পিছিয়ে যাচ্ছি!

গুলিস্তানে ‘নাজ’ সিনেমা হলে শুধু ইংলিশ ছবি চলতো। আমরা নিয়মিত দেখতাম। আমার মনে আছে স্টুডেন্টদের জন্য কন্সেশন ছিল। ১ টাকা ৭০ পয়সার টিকেট স্টুডেন্ট পাস দেখিয়ে আমরা কাটতাম ১ টাকায়। আর, এখন যদি কন্সেশন দেয়াও হয় স্টুডেন্টরা কী ছবি দেখবে!

আমার প্রথম অভিনীত ছবি ছিল Tanvir Mokammel-এর ‘হুলিয়া’। একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি। আমার মনে হয় ছবিটা ভালো হয়নি। কিন্তু আমাদের কী যে আন্তরিকতা ছিল! ক্যামেরাম্যান Anwar Hossain কোত্থেকে যেনও একটা ১৬ মি.মি. ভাঙ্গা ক্যামেরা জোগাড় করে নিয়ে এসেছিলেন। আমার একটা দৃশ্য ছিল সাঁকো পার হওয়ার; আমি সাঁতার জানতাম না, ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম তাও করেছি। সেই দিনগুলি কোথায়! কাজের প্রতি সেই কমিটমেন্ট কোথায়!

কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুরে গিয়ে ‘প্রজেকশন’ নামে একটা সিনেমা হল দেখলাম; সেখানে সব ক্লাসিক ছবি দেখানো হয়। আমি সেখানে ইরানী নির্মাতা জাফর পানাহীর ‘ট্যাক্সি’ মুভিটা দেখলাম। নির্মাণ শৈলী দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এই মুভিতে জাফর পানাহী একজন ট্যাক্সিচালক। ট্যাক্সির সহযাত্রীদের কথায় প্রকাশ পায় ইরানের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতির রুঢ় বাস্তবতা।

শিল্পকলা একাডেমীতে আমি পৃথিবীর সেরা চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শনের জন্য একটা সিঙ্গাপুরের ‘প্রজেকশন’-এর মতো একটা হল করতে চাই। কাজটা এখন প্রক্রিয়াধীন। আমার প্রত্যাশা- যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন সেখানে প্রতিদিন একটা করে ভালো ছবি দেখানো হবে!

বিটিভিতে তখন সিঙ্গেল ক্যামেরায় কী অসাধারণ কাজ হতো। এখন ৩ ক্যামেরা ব্যবহার করেও সেই মানের কাজ হয় না। বিটিভি-তে যারা কাজ করতেন তারা সেটাকে চাকরি মনে করতেন না। ৯টা-৫টা কাজ করতেন না তারা। প্রয়োজনে গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিপ্ট নিয়ে, প্ল্যানিং নিয়ে কাজ করতেন।

এইতো এই ঈদে আমি বিটিভি-র একটা নাটকে কাজ করেছি। আমি সম্মানী পেয়েছি ১০ হাজার টাকা। এই কাজটা বাইরে করলে নিতাম অন্তত ৫০ হাজার টাকা। শিল্পীদের এই অতিরিক্ত টাকা নেয়াটা আমি দোষের কিছু মনে করি না। আগে অভিনয়টাকে পেশা হিসেবে নেয়ার সুযোগ ছিল না কিন্তু এখনকার শিল্পীদের অভিনয়টাই একমাত্র পেশা। এই আয় থেকেই তাঁদের সংসার চালাতে হয়।

এখন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে পড়ার একটা বড় কারণ আমরা বই পড়ি না। আমার মনে আছে, আগে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বই উপহার দিতাম। আর এখনতো উপহার দিলে মনে করে তাকে ঠকাচ্ছি; আমি কঞ্জুস!

কলকাতার লোকদের আমাদের এখানকার লোকজন কঞ্জুস মনে করে। আমার মনে হয় তারা আসলে অপচয় করেন না। সেখানে আমি আমার এক বন্ধুকে দুটো মিষ্টি কিনতে দেখেছি; একটা তাঁর এবং একটা তাঁর স্ত্রী-র জন্য। এই যে টাকাটা তারা বাঁচালো- সেটা দিয়ে বই কিনবে, সিনেমা দেখবে এবং ছুটিতে বেড়াতে যাবে।

১০ কোটি মানুষের কলকাতায় ‘আনন্দবাজার’ প্রকাশিত হয় ১২ লাখ আর আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশে প্রিন্ট পত্রিকার সর্বোচ্চ সার্কুলেশন ৩ লাখের মতো। এর মানে আমরা পড়ি না!

না পড়ে আমাদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন হবে কিভাবে!’

রাকিবুল হাসান

ফেসবুক লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10154140112172981&set=a.199553392980.124268.701102980&type=3&theater

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফেসবুক থেকে এর অারো খবর