আওয়ামী লীগে পদপ্রত্যাশী নেতাদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে
আওয়ামী লীগে পদপ্রত্যাশী নেতাদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে
২০১৬-১০-০১ ০৬:০৬:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+


ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। একই সঙ্গে দলের তারকা নেতারাও পড়েছেন কিছুটা হতাশায়।

আগামী ২২-২৩ অক্টোবর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কাঠামো খুব একটা বড় হচ্ছে না। ৭৩ সদস্যের বর্তমান কমিটির কলেবর বাড়িয়ে ৮১ করার সিদ্ধান্ত মোটামুটি চূড়ান্ত। এ ব্যাপারে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাবও ইতিবাচক।

কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান নেতাদের সবাই নতুন কমিটিতে থাকার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ পদোন্নতির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নতুনদের মধ্যে যারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে চাইছেন তারাই বেশি তৎপর।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানান, ১৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সংখ্যা ১৯ হবে। ৩২ সদস্যের সম্পাদকমণ্ডলীর পরিসরও বাড়বে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের তিনটি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সাতটি পদের সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রশিক্ষণ সম্পাদকের একটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদকের পদ আলাদা করে দুটি করা হতে পারে।


সভাপতিমণ্ডলীর বর্তমান সদস্যদের মধ্যে কারোরই বাদ পড়ার তেমন সম্ভাবনা নেই বলেই নেতাদের ধারণা। তবে নতুন কারা সভাপতিমণ্ডলীতে আসছেন, সেটা নিয়ে দলের ভেতরে বড় ধরনের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। অনেকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায়ও পড়েছেন। তবে কমপক্ষে সম্পাদকমণ্ডলীর তিনজন সদস্য সভাপতিমণ্ডলীতে আসছেন বলে নেতারা মোটামুটি নিশ্চিত। এ তিন নেতার মধ্যে একজন নারী নেত্রীও রয়েছেন।

দলের তিন তারকা নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিমণ্ডলীতে আসার গুঞ্জন রয়েছে। তবে অনেকে বলছেন, তাদের মধ্যে একজন শেষ পর্যন্ত ছিটকে পড়তে পারেন।

আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দলের গত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলের সর্বশেষ সম্মেলনে এ তিন নেতাকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়।

এদিকে বেশ কয়েকটি সম্পাদকীয় পদে বর্তমান নেতৃত্বে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে শীর্ষ নেতারা মনে করছেন। নিজেদের পদ-পদবি টিকিয়ে রাখতে বেশ কয়েকজনকে রীতিমতো বড় ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের নেতাদের কারও কারও বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা, অদক্ষতা, অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

দলের আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দলকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ একঝাঁক নতুন নেতৃত্বেরও সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাই এগিয়ে রয়েছেন।

(শাহেদ চৌধুরী)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর