ব্রেকিং নিউজ বিজয় দিবসে দি ইঞ্জিনিয়ার্স-এর সকল পাঠক-পাঠিকা, গ্রাহক-অনুগ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, দেশবাসী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
বনানী থেকে বিমানবন্দর এখন ডিজিটাল
বনানী থেকে বিমানবন্দর এখন ডিজিটাল
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-৩০ ০৪:৪৬:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে গাড়িতে বসে থাকলেও মোবাইল ফোনে ‘ইন্টারনেট কানেক্টেড’ হয়ে যাবে। আর সড়কের দু’পাশের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যাবলী নজর কাড়বে সবার। মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনা প্রবাহ ফুটে উঠবে তিনটি স্মৃতিস্তম্ভে।
সড়কটিতে থাকবে ১০টি ডিজিটাল যাত্রী ছাউনি । যেখানে ওয়াইফাই, এটিএম, মোবাইল রিচার্জ, ওয়াশরুম এবং কয়েন দিয়ে পণ্য কেনার অত্যধুনিক সুবিধা পাবেন যাত্রী ও পথচারীরা। ১২টি মাউন্টেন ঝরনা থেকে অবিরত পানি ঝরবে। ঝরনার জলে মাছেরা খেলা করবে।

এলইডি ফোকাস লাইট দিয়ে রাতে সড়কটিকেও আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলবে। সড়কটির একটি অংশে থাকবে আলাদা সাইকেল লেনও।

দেশে এই প্রথম উন্নত বিশ্বের আদলে বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের ডিজিটাল রূপ বাস্তবায়নের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। তবে এতে সরকারের কোনো ব্যয় হচ্ছে না। পুরো কাজটি করছে ‘বিনাইল ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি স্পন্সর প্রতিষ্ঠান। ব্যয় হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ কোটি টাকা।

গত আগস্ট মাসে শুরু হয়েছে এর নির্মাণ কাজ, কাজটি শেষ হতে সময় লাগবে মাত্র ছয় মাস।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান জানান, উন্নত বিশ্বের আদলে বনানী রেলওয়ে ওভারপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কটি ডিজিটাল রূপ পাচ্ছে। এ ছয় কিলোমিটার সড়কে প্রবেশমাত্রই মোবাইল থেকে ‘ফ্রি ওয়াইফাই ইন্টারনেট’ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। দেশে প্রথমবারের মতো ১০টি ডিজিটাল যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হচ্ছে। একেকটি যাত্রী ছাউনি হবে আড়াইশ’ ফুট দৈর্ঘ্যের। যেখানে একশ’ থেকে দেড়শ’ জন লোক অনায়াসে বসতে পারবে।

তিনি আরও জানান, হোটেল রেডিসনের সামনে জিয়া কলোনির পাশে পাইলট প্রকল্প হিসেবে একটি মাউন্টেন ঝরনা ও ২শ’ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ চলছে।

ছয় মাসে অর্থাৎ আগামী বছরের মার্চে শেষ হবে পুরো কাজ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঝরনার মতো ঝরনা বেয়ে পানি নামছে। আর ‍পানিতে খেলা করছে মাছ। সড়ক থেকে আলাদা করে দেওয়া হযেছে হাঁ‍টার পথ।

সড়কের পাশ দিয়ে গেছে পরিচ্ছন্ন নজরকাড়া ওয়াকওয়ে। রাতে মাউন্টেন ঝরনা থেকে আশপাশে নানা বর্ণের আলো বিচ্ছুরিত হতে শুরু করেছে এখন থেকেই।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্র ‍জানায়, হোটেল রেডিসনের সামনের রাস্তার দু’পাশে ‍দু’টি, শেওড়ায় দু’টি, খিলক্ষেতে দু’টি, বিমানবন্দরের আগে কাওলায় দু’টি এবং বিমানবন্দরে হচ্ছে দু’টি ডিজিটাল যাত্রী ছাউনি।

যাত্রী ছাউনিগুলোর অত্যধুনিক সুবিধার বর্ণনা দিয়ে সড়কের প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান জানান- যাত্রী ছাউনিতে বসানো হবে ‘নির্দিষ্ট কয়েন ড্রপ করে পছন্দের পণ্য কেনার সুবিধা । যাত্রীরা নির্দিষ্ট অংকের কয়েন কিনবেন। তারপর কয়েন দিলে তার কাঙ্ক্ষিত খাবার পণ্যটি বের হয়ে আসবে। থাকবে এটিএম বুথ, মোবাইল রিচার্জসহ অন্যান্য সুবিধা। ১০টি যাত্রী ছাউনির মধ্যে ৬টিতে আধুনিক টয়লেট সুবিধা থাকবে। সেখানে পানি খাওয়ার ব্যবস্থা ও আলাদা নামাজের কক্ষ থাকবে।

সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের অনেক জায়গায় ফুটপাতগুলো এলোমেলো ভাবে রয়েছে। কোথাও ফুটপাত সরু হয়ে গেছে, আবার কোথাও একেবারে নেই। তবে এই সৌন্দর্য বর্ধন কাজের আওতায় ছয় কিলোমিটার সড়কজুড়েই থাকবে সুপ্রশস্ত দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত ওয়াকওয়ে। পুরো ওয়াকওয়ে সারারাত আলোকিত থাকবে। লাইটের এমন ব্যবহার এই প্রথম দেশের কোনো সড়কে করা হচ্ছে।এছাড়া সড়কের নিকুঞ্জ এলাকার অংশে ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য একটি প্লেয়িং জোন করা হবে ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর

top
ব্রেকিং নিউজ বিজয় দিবসে দি ইঞ্জিনিয়ার্স-এর সকল পাঠক-পাঠিকা, গ্রাহক-অনুগ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, দেশবাসী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
facebook
Advertisement