চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-২৯ ০৪:১৮:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মূল ফটকের দক্ষিণ দিকে সবুজ ধানক্ষেতের পাশের তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার বিকেল কুড়িগ্রাম ওই কলেজ মাঠে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পৌনে পাঁচটার দিকে তাকে সমাহিত করা হয়।

প্রয়াত লেখকের ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক ও ভাই সৈয়দ আজিজুল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও সেখানে সৈয়দ হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সৈয়দ হকের মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে। সেখানে জানাজার পর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ নেওয়া হয় জন্মস্থান কুড়িগ্রামে। বিকেল ৪টার দিকে সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে তৈরি অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামে। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও আওয়ামী লীগ নেতা সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকও লাশবাহী হেলিকপ্টারে করে কুড়িগ্রামে আসেন।

পরে মরদেহ নেওয়া হয় কলেজ মাঠে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে। সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শ্রদ্ধা কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাফর আলী, জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার মো. তবারকউল্লাহ ও জেলা দায়রা জজ ও অন্যান্য বিচারকবৃন্দ।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মাঠে কবির ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক কুড়িগ্রামবাসীর উদ্দেশ্য বলেন, রাষ্ট্র আমার বাবার জন্য যা করেছে, তার জন্য আমাদের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী বাবাকে আমরা কুড়িগ্রামে নিয়ে আসা হলো।

কবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় জমাতে থাকেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃত্বে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গসংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রংপুর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (আম্বিয়া), সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ, শিখা সংসদ, লালমনিরহাট থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ শামসুল হক। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর