অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় সার্ক সম্মেলন স্থগিত বাংলাদেশের
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় সার্ক সম্মেলন স্থগিত বাংলাদেশের
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৯-২৯ ০৩:১৭:০৮
প্রিন্টঅ-অ+




বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অব্যাহতভাবে পাকিস্তান হস্তক্ষেপ করায় ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম আজ বুধবার দুপুরে তাঁর দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও ভুটান এই সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে আট সদস্যের এই জোটের শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা গতকাল সার্কের সভাপতি দেশ নেপাল ও সার্ক সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ যোগ দিচ্ছে না। কারণ হিসেবে আমরা বলেছি, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যে সম্পর্ক থাকা উচিত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি রাষ্ট্রের অব্যাহতভাবে হস্তক্ষেপ এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য উপযোগী নয়। পাশাপাশি আমরা বলেছি, সার্কের প্রতিষ্ঠাতা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেকটিভিটি ও সার্বিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশ্বাস করে। সময় ও সুযোগ যখন আসবে বাংলাদেশ তখন সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবে।’

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পাকিস্তানে হচ্ছে বলেই বাংলাদেশ যাচ্ছে না?—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সার্কে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করাটা নতুন কিছু নয়। পরিবেশ হলে বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে, স্থান গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা যেটা বলেছি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অব্যাহতভাবে পাকিস্তান হস্তক্ষেপ করেছে।’

ভারতের উরিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে একঘরে করার যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেটা বলব না। এটি বাংলাদেশের নিজস্ব একটি সিদ্ধান্ত। আমরা সব সময় বলে আসছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার ও তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার—এসব বিষয়ে বাংলাদেশ কখনো কারও সঙ্গে আপস করেনি এবং করবেও না।’

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে কি না?—এর জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সেটা সময়ই বলে দেবে।’

আমাদের নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানান, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। নয়াদিল্লিতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপমহাদেশের শান্তি, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। উপমহাদেশে যে অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে সার্কের মতো শীর্ষ সম্মেলনের পরিস্থিতি নেই। এই অবিশ্বাস ও অনাস্থার পরিস্থিতিতে কোনো আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল হবে না। এ ধরনের অনুষ্ঠান অর্থহীন হয়ে যাবে বলেই মনে করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ কিছু ঘটনায় আস্থার জায়গায় নেই। পাকিস্তান যেভাবে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে, তাতে আস্থার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ একাধিকবার তার মতো করে প্রতিবাদ জানিয়েছে, পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করেছে। তবে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তান মনোভাব বদলায়নি। বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট হয়েছে। সার্কের স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনেও বাংলাদেশ অংশ নেয়নি। এই নীরব প্রতিবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার মনোভাব জানিয়ে দিয়েছে। তবে প্রতিবেশীদের ব্যাপারে পাকিস্তানের মনোভাব বদলায়নি।

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা উচিত কি না?—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বলেন, এটা জাতিসংঘের বিষয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর