জিকা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ: মোহাম্মদ নাসিম
জিকা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ: মোহাম্মদ নাসিম
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৯-২৯ ০৩:০৯:৪১
প্রিন্টঅ-অ+




বাংলাদেশ জিকা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। আজ বুধবার সংসদে এ কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের এ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এবং এ দেশে এডিস মশার অস্তিত্ব থাকায় বাংলাদেশও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সরকারি দলের মিজানুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুরে বসবাসরত ১৯ জন বাংলাদেশির শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা সিঙ্গাপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজ করছে। বিশ্বের ৮৮টি দেশে জিকা ভাইরাস রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এশিয়ার সব কটি দেশই জিকা ভাইরাস ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ভাইরাস আক্রান্ত রোগীরা যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারেন, এ জন্য স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে ভাইরাস শনাক্তের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকারি হিসেবে বর্তমানে দেশে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে ৬৫৮ জন মারা গেছেন।

নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভেজাল ওষুধ তৈরি ও মানসম্মত ওষুধ তৈরি না করায় সরকার বেশ কিছু ওষুধ কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ১৩টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ২০টি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। ১৪টি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। ১২টি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের পেনিসিলিন ও সেফালোস্পেরিন-জাতীয় ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। দুটি কারখানায় মানবদেহের বাইরে ব্যবহারযোগ্য ওষুধ ছাড়া অন্যান্য ওষুধ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে সরকার অনুমোদিত ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানার সংখ্যা ৮৫৩টি। এর মধ্যে অ্যালোপেথিক ওষুধ উৎপাদনকারী ২৬৮, ইউনানি ২৬৭, আয়ুর্বেদিক ২০৭, হোমিওপ্যাথিক ৭৯ এবং হারবাল ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৩২টি।

পঞ্চানন বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের ৪০ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। যে কারণে যন্ত্রপাতি থাকলেও এর পেছনে কোনো মানুষ নেই। মূলত জনবল-সংকটের কারণে সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরকার জনবল অনুমোদন করলে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ ভাগ। এই হারে বাড়লে ২০২১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ১৭ কোটি ১৬ লাখ। জেবুন্নেছা আফরোজের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান বলেন, এ বছর সরকারি খরচে ২৮৯ জন হজ পালনে সৌদি আরব গেছেন।

রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর যেসব হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, দেশে উদ্ধারকারী জলযান চারটি। এর মধ্যে হামজা ও রুস্তমের সক্ষমতা ৬০ টন এবং নির্ভীক ও প্রত্যয়ের সক্ষমতা ২৫০ টন।

প্রশ্নোত্তরের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল পাঁচটার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর