যাদের জন্য সঙ্গী নির্বাচন সহজ নয়
যাদের জন্য সঙ্গী নির্বাচন সহজ নয়
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৯-২৫ ২২:৪৯:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+


বর্তমান দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জন্য ঘটকালি সহজ নয়। এই মানুষগুলো কাজ করেন প্রযুক্তি নিয়ে। সারা দিন তাঁদের মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায় প্রযুক্তির নানা ‘আইডিয়া’, উদ্ভাবনের নানা কলাকৌশল। কিন্তু সঙ্গী খোঁজার কাজটি তাঁদের দিয়ে সহজে হয় না। এমনকি ডেটিং সাইটগুলোতে গিয়েও সহজে সঙ্গী বানাতে পারেন না তাঁরা। এ ধরনের লোকগুলো কাজ করেন সিলিকন ভ্যালির গুগল, ফেসবুকের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানে বড় বড় পদে। এই লোকগুলোর সঙ্গী খুঁজে দিতে ব্যবসা খুলে বসেছেন আরেক দল উদ্যোক্তা। এই ঘটকালি ব্যবসাও এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিপাগল মানুষগুলোর জন্য প্রকৃত সঙ্গী খুঁজে বের করে দেওয়া ‘ঘটক’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিজনেস ইনসাইডার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জন্য সঙ্গী খুঁজে দেওয়ার ফি হিসেবে ১৯ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার নিয়েছে আধুনিক এই ঘটক। দেখা যাচ্ছে, সিলিকন ভ্যালির অনেক উদ্যোক্তাই সঙ্গী খুঁজতে পেশাদার ঘটকালিসেবার আশ্রয় নিচ্ছেন।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এক্সিকিউটিভ ম্যাচমেকার্সের প্রধান নির্বাহী শার্লি ব্রথারটন বলেন, সিলিকন ভ্যালির এ মানুষগুলো স্কুলে জনপ্রিয় শিশু ছিল না। কলেজে মজা করে বড় হয়নি। সেই সময় সঙ্গীও খুঁজে বের করতে পারেনি।

উদ্যোক্তা পরিবার থেকে উঠে আসা ব্রথারটন ১৯৯৯ সাল থেকে ‘ম্যাচমেকিং এজেন্সি’ চালাচ্ছেন। ডেটিং পরামর্শক মেগান বুকুয়েনকে সঙ্গে নিয়ে এ বছরের মে মাস থেকে শুরু করেছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাচমেকার্স। ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্ঠান থেকে গুগল-ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের জন্য সঙ্গী খুঁজে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্রথারটন।

প্রথমবার দেখা বা সঙ্গী জোগাড় করে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার ডলার করে ফি নেন ব্রথারটন। ব্রথারটন বলেন, মনের মতো সঙ্গী খুঁজে পেতে অবশ্য বেশি দেরি হয় না। কয়েকবার দেখা-সাক্ষাতের পরেই মনের মতো সঙ্গী পেয়ে যান তাঁরা।

গ্রাহকের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বড় একটি ডেটাবেইস তৈরি করেছে। এ ছাড়া অন্যান্য ম্যাচমেকিং নেটওয়ার্কের সঙ্গে চুক্তি করেও কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্রথারটন দাবি করেন, তাঁদের এই সেবার সফলতার হার ৯০ শতাংশ। অধিকাংশ গ্রাহক দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের বাঁধনে যুক্ত হন এবং তাঁরা এ সেবায় খুশি। যে মানুষগুলোকে এ সেবা দেওয়া হয়, তাঁদের অধিকাংশই মজার মানুষ। তাঁদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করে দেন তাঁরা।

ঘটকালির নতুন এই ধারণার উদ্যোক্তাদের মতে, সিলিকন ভ্যালির মতো জায়গায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা অনলাইন ডেটিংয়ের আত্মবিশ্বাস কম পান বলে তাঁরা ঘটকালি এজেন্সির সাহায্য নিচ্ছেন। তাঁরা ব্যবসা ও প্রযুক্তি খুব ভালো বোঝেন, কিন্তু ভালোবাসার জগৎটা তাঁদের কাছে নতুন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার খালি এবং সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলতেও লজ্জা পান। তাঁরা ডেটিংয়ে গেলে ভুলভাল বলে ফেলবেন বলে মনে করে বসেন। ঘটকালি এজেন্সি থেকে তাঁদের এ বিষয়ে কথা বলার বিষয়গুলো শেখানো হয়।

এক্সিকিউটিভ ম্যাচমেকার্সের উদ্যোক্তাদের মতে, প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষের চাওয়া থাকে তাঁদের মতোই বুদ্ধিমান সঙ্গী, কেউ কেউ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া সঙ্গীও চান। অবশ্য তাঁদের মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে এমন যোগ্যতার মাপকাঠি তারা বেঁধে দেন না। তাঁদের চাওয়া থাকে সঙ্গী যেন একই মূল্যবোধ ধারণ করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর