বেদেদের জীবনে ডিজিটাল ছোঁয়া
বেদেদের জীবনে ডিজিটাল ছোঁয়া
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-২৪ ০৫:১৭:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


বেদে সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষেরা আজীবন বিভিন্ন নদ-নদীর পানিতে ভেসে ভেসে যাযাবরের মতো জীবনযাপন করতো। তাদের জন্ম-মৃত্যু বিয়ে তথা জীবনযাপন জলে থাকলেও এখন তারা ধীরে ধীরে ডাঙ্গায় উঠে আসছে। তাদের কোনো পরিসংখ্যান জানা না থাকায় বেদে সম্প্রদায়ের সংখ্যার বিষয়টি জানা যায়নি। তবে এদের মধ্যে চার জাত বলে জানা যায়। যেমন সওদাগর, সাভার, বাজিগর ও বেদে। বেদে সম্প্রদায়ের জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রতি অনীহা। তাদের জীবনধারা চিরাচরিতের মতো। এখন তাদের জীবনধারায় পরিবর্তন এসে আধুনিকতার ছোঁয়া।

সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভা থুপসাড়া মহল্লার চত্রা পুকুর পাড়ে। কুপি বা হ্যারিকেনের আলো-আঁধারি রঙ-বেরঙের পলিথিনে মোড়ানো তাদের ছোট ছোট ঘরে এখন সৌর-বিদ্যুতের আলো জ্বলে ও মাথার উপরে ফ্যান ঘোরে। সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিটি ঘরে রেডিওতে বাজে গান, রাতে চলে ডিজিটাল টেলিভিশন আর তাদের হাতে আছে মুঠোফোন। তাদের ছেলেমেয়েদেরকে সময়মতো তারা নিজেরাই পড়াশোনা দিয়ে থাকে। তারা জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রতি সচেতন। আবার স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করেন না এমন একটি পরিবারও খুঁজে পাওয়া যায়নি বেদেদের মধ্যে। জীবনধারণের জন্য তারা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল তারা।

বেদে সম্প্রদায়েরা একত্রে খোলা আকাশের নিচে, বিভিন্ন গাছতলা, অস্থায়ী ঝোপ-ঝাড়ে, বিভিন্ন পুকুর পাড়ে বসবাস করে থাকে। গোখরা, শঙ্খিনী, দারাজ, পক্ষিণী, বাঁশপাতা আরো কত কত জাতের সাপ, বেজি ও বানর তাদের নিত্য সঙ্গী। সাপ ধরা আর, বেজি ও বান নিয়ে খেলা দেখানোর কৌশল এদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বেদে নারীরা ছোট বাক্সে করে সাপ নিয়ে বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাত রোগ সারাতে চোঙা দিয়ে মানুষের শরীর থেকে রক্ত আনা, দাঁতের পোকা বের করা এবং বিভিন্ন গাছ-গাছড়া দিয়ে ঔষধ তৈরি করে বিক্রি করে তাদের পরিবারের সদস্যদের খাবারের জোগান দেয় আর এই ধারা চলে আসছে বহু যুগ ধরে।

কালাই উপজেলার অস্থায়ীভাবে বসবাস করা বেদে সম্প্রদায়ের সরদার পুটুমিয়া ও আতাহার বিবি জানান, বেজি, বানর ও সাপের মেলা দেখিয়ে এবং সাদা লজ্জাবতী গাছ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায় তার বেশিভাগ ব্যয় হয়ে যায় বেজি, বানর ও সাপের খাদ্য ও চিকিৎসায়। তাছাড়া স্থলপথে যাতায়াতে বাস, রিকশা ও ভ্যান ভাড়া দিতে হিমশিম খেতে হয় আবার বৈরী আবাহাওয়ার কারণে বছরের অনেক সময় বেকার বসে থাকতে হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর