প্রকৃচি-বিসিএস প্রতিনিধি সম্মেলনে কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান
প্রকৃচি-বিসিএস প্রতিনিধি সম্মেলনে কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২৪ ১৭:৩৩:১৫
প্রিন্টঅ-অ+


প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, ২৬ ক্যাডার যদি একত্রিত হয়ে মাঠে নামে কুচক্রী প্রশাসন ক্যাডার ভিত খুঁজে পাবে না। আমরা পথে নামলে ওরা টিকবে না, সরকার টিকবে না।

তাঁরা আরও বলেন, পাতা ছেঁড়া আন্দোলন নয় এবার শিকড় উপড়ে ফেলার আন্দোলন হবে। তাঁরা সবাইকে কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (আইইবি)-তে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএমএ প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্য ২৬ ক্যাডারের বৈষম্যে দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব মো: ফিরোজ খান বলেন, যখন আমরা উন্নয়নমূলক কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তখন বিশেষ একটা মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা কাজ ফেলে এসব সম্মেলনে আসতে বাধ্য হচ্ছি। সার্ভিস এক্ট চালু না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

বিসিএস প্রাণী সম্পদের মহাসচিব দিলীপ ঘোষ বলেন, কৃত্য পেশাভিত্তিক জনপ্রশাসন আমাদের মুল দাবি। এই দাবি আদায়ে আমাদের সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

বিসিএস টেলিকম ক্যাডার এসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ তালেব বলেন, ২৬ ক্যাডার যদি একত্রিত হয়ে মাঠে নামে কুচক্রী প্রশাসন ক্যাডার ভিত খুঁজে পাবে না। আমরা পথে নামলে ওরা টিকবে না, সরকার টিকবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই সরকারের আদর্শেই আমরা বিশ্বাসী।

স্বাস্থ্য ক্যাডারের সভাপতি আ ম সেলিম রেজা বলেন, আমাদের প্রতি সংবেদনশীল হন; আমরা দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

সমবায় ক্যাডারের সভাপতি আসাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৭১ থেকে ২০১৫-র দিকে না এগিয়ে আমরা ৪৭-এর ব্রিটিশ শাসনের দিকে পিছিয়ে যাচ্ছি।

আইইবি-র স সভাপতি আতাউল মাহমুদ বলেন, আমাদেরকে পেছন থেকে টেনে ধরা হচ্ছে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য।

বিসিএস কৃষি ক্যাডার এসোসিয়েশনের মহাসচিব খ্যরুল আলম প্রিন্স বলেন, সরকার ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, আমাদের দাবি মেনে নিন; আমরা ১০ বছর আগে লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি প্রফেসর নাসরিন বেগম বলেন, আমাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে কঠিন কর্মসূচিতে যেতে হবে। অন্যথায় আমাদের অর্জন হবে শুন্য।

মৎস্য ক্যাডার এসোসিয়েশনের মহাসচিব মুজিবর রহমান বলেন, পাতা ছেঁড়া আন্দোলন নয় শিকড় উপড়ে ফেলার আন্দোলন হবে।
আইইবি-র সহসভাপতি মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, অবলম্বে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্য ২৬ ক্যাডারের বৈষম্যে দূর করতে হবে।

প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আইইবি-র সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর বলেন, গত ৮ বছর সরকারের সকল অর্জনের পাশে ছিলাম আমরা; আমলারা সব অর্জন ভেস্তে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

কৃষি ইন্সটিটিউশনের সভাপতি মোবারক আলী বলেন, দেড় লক্ষ কর্মকর্তা ক্ষেপে উঠলে ৫ হাজার কর্মকর্তা পালিয়ে কুল পাবে না।

প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আইইবি-র সভাপতি কবির আহমেদ ভূঞা বলেন, আন্দোলনে সফল আমরা হবই কিন্তু হঠকারী কোনও সিদ্ধান্ত আমরা নেব না। শান্তিপূর্ণভাবেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

বিএমএ-র সভাপতি মাহবুব হাসান বলেন, আমরা শুধুমাত্র প্রশাসন ব্যবস্থার কারণে পিছিয়ে আছি। প্রশাসন ব্যবস্থা না থাকলে বাংলাদেশ আজ উন্নত দেশে পরিণত হত। তিনি বলেন, কৃত্য পেশাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার দাবিতে আমাদের আন্দোলন আব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর