টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২১
টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২১
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-১০ ১৯:১৮:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+


গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড নামের একটি প্লাস্টিক কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

ট্যাম্পাকো নামের ওই কারখানায় শনিবার সকাল ৬টার দিকে বয়লার বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। হতাহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর ১৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের লাশ টঙ্গী হাসপাতালে রয়েছে। চারজনের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং দুইজনের লাশ উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- জয়নাল আবেদিন (অপারেটর), আনোয়ার হোসেন (অপারেটর), শংকর (ক্লিনার), রেদোয়ান (দারোয়ান), জাহাঙ্গীর (নিরাপত্তাকর্মী), হান্নান মিয়া (নিরাপত্তাকর্মী), রফিকুল ইসলাম (শ্রমিক), ইদ্রিস, আল মামুন, নয়ন, সুভাষ, জাহিদুল, রাশেদ (রিকশাচালক)।

ওই কারখানায় বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিংয়ের কাজ করা হতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জিনিস বানানো হতো। এই কারখানায় তিন শিফটে প্রায় ২১শ’ শ্রমিক কাজ করত। যখন বিস্ফোরণ হয় তখন রাতের শিফটে লোকজন কাজ করে সকালে বের হওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছিল, এমন সময় বিস্ফোরণ ঘটে।

জানা গেছে, রাতে শিফটে দেড়শতাধিক লোক কাজ করত। সকালের শিফটের কিছু শ্রমিকও কারখানায় প্রবেশ করেছিল।

বিস্ফোরণের পর ওই কারখানা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন ধরে যায়। দ্রুত সে আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ফলে ৪তলা ওই ভবনের একাংশ ধসে পড়ে।

ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে নিহতদের সৎকারের জন্য পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানান, ঘটনার তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

সকাল ১০টার দিকে ভেতরে থেকে দুজনের লাশ বের করা হয়। তারা দেয়াল চাপায় নিহত হয়েছেন। লাশ দুটি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, হাসপাতালে ১৯ জনকে আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর কারখানাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জয়দেবপুর, টঙ্গী, কুর্মিটোলা, সদর দফতর, মিরপুর এবং উত্তরাসহ আশেপাশের ফায়ার স্টেশনের ২৫টি ইউনিট।

জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. রফিকুজ্জামান জানান, শনিবার সকালে টঙ্গীর বিসিক নগরীতে ট্যাম্পাকো কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর