অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি বেড়েছে
অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি বেড়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-০৯ ১৯:৫০:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


সাত বছর আগে শুধুমাত্র ১৫টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল সাদিক অ্যাগ্রো খামারের। ২০১৬ তে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০০তে। শুধু গরু নয়, কোরবানি উপলক্ষে এখন বিক্রির জন্য রয়েছে বিভিন্ন আকার ও ওজনের মহিষ, হোয়াইট বাফেলো, উট, দুম্বা, খাসি। আর এর বেশিরভাগই এবার বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. সদরুদ্দীনের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার অনলাইনে কোরবানির পশু বেচা-কেনা খুব জমজমাট।

শুধু সাদিক অ্যাগ্রো নয়, অনলাইনে যারা কোরবানির পশু বিক্রি করছেন তাদের অনেকেই বলেছেন, আগের তুলনায় অনলাইনে ব্যবসাটির পরিধি বেড়েছে বহুগুণ।যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই কারও কাছেই। তবে অনলাইন পশুর হাটের সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রতিবছরেই তাদের পশু বিক্রির সংখ্যা বেড়েছে। অনেকের দাবি, বেশ কয়েক বছর ধরে আগের বছরের দ্বিগুণ পরিমাণ কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি করছেন তারা।

মো. সদরুদ্দীন বলেন, ২০১৩ তে আমি অনলাইনে যে পরিমাণ কোরবানির পশু বিক্রি করেছি তার চেয়ে বেশি করেছি তার পরের বছরে। এভাবে প্রতিবারই আমার খামারে কোরবানির জন্য পশু বিক্রির সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ পশু কেবল অনলাইনেই বিক্রি হয়েছে।

একই রকম ব্যবসায় জড়িত আমারদেশ ই-শপের প্রোজেক্ট ম্যানেজার এনামুল হক জানিয়েছেন, তারা ২০১৩ সালে অনলাইনে পশু বিক্রয় শুরু করেছিলেন কোরবানির আগে। আর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে সেটা ছিল ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০১৪ সালে তারা তাদের বিক্রিযোগ্য কোরবানির পশুর প্রায় ১০ শতাংশ এবং এর পরের বছরে প্রায় ১৫ শতাংশ গরু তারা বিক্রি করেছিলেন কেবল অনলাইনেই।

অপরদিকে, বিক্রয় ডটকমের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. মাহবুব হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিক্রয় ডটকম গত তিনবছর ধরে কোরবানির সময়ে পশু বিক্রি করছে। প্রতিবছরই ক্রেতার চাহিদার কারণে তাদের পশুর সংখ্যা বেড়েছে মাহবুব হাসান বলেন, গত বছর যারা ফোন করেছিল, পশু কিনেছিল তারা এবারও আমাদের ফোন করছে। গতবারের তুলনায় এবার ক্রেতার সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

কোরবানি উপলক্ষে অনলাইনে পশু ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কিছুটা প্রতারিত হবার আশঙ্কা থাকলেও বেশিরভাগ ক্রেতাই সুবিধাজনক মনে করছেন এই অনলাইন হাটকে। আশার কথা হচ্ছে, পেশাদার অনলাইন বাজারগুলোর (ই-কমার্স সাইট) পাশাপাশি কেবলমাত্র ঈদকে কেন্দ্র করেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি কোরবানির হাট। আর সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে পশুর হাটগুলো বেশ জমজমাট। পেইজগুলোতে পশুর ছবি, বিবরণ, উচ্চতা, ওজন, দাম এবং কোন এলাকা থেকে এগুলো আনা হয়েছে সেসবও তুলে ধরা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানালেন, অনলাইনেই পশুটি দেখে পছন্দ করলে কিছু অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করার মাধ্যমে বুকিং দিতে হয়। তারপর নির্দিষ্ট সময়ে তারাই বাড়িতে পশুটি পৌঁছে দেয়।

ক্রেতাদের কাছ থেকে কখনও কোনও অভিযোগ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুরুতর অভিযোগ কখনও পাইনি। তবে অনেক সময় এটা শুনেছি যে, তারা ওজনটা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। কিন্তু এখানে এলে তাকে আমরা ওজনটা পরিমাপ করে দেখিয়ে দেই। মো. সদরুদ্দীন বলেন, বাজারের পশুতে ওজনটা বেশি থাকে কিন্তু সেটা থাকে ফোলানো-ফাঁপানো। আমার এখানে কোনও ফোলানো বা ওষুধ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সাত বছরে এভাবেই আমি ক্রেতার আস্থা অর্জন করেছি।তাই অনলাইনে বিক্রি করছি এবং এর বাজার ধীরে ধীরে আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক ভিত্তিক পেইজ ফেসবুকে পায়েল, বিশাল গরুর হাট, বিক্রয় ডটকম, আমারদেশ ই-শপ, এখানেই ডটকম, হাটেরগরু ডটকম নামের বেশকিছু ই-কমার্স সাইট এবার গরু বিক্রি করছে এবং তাদের বিক্রয়টাও বেশ সন্তোষজনক বলেই তারা জানালেন।

তবে গ্রাহকদের আশংকা দূর করতে বিক্রয়ডটকমের ফেজবুক পেজে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- সবসময় বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি দেখা করবেন। আপনি যা কিনতে যাচ্ছেন তা দেখার আগে কোনও টাকা পরিশোধ করবেন না। অচেনা কারও কাছে টাকা পাঠাবেন না।

ই-কমার্স সাইট আমার দেশ-আমার গ্রামের আমার দেশ ই-শপ এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনলাইনে কোরবানির পশুর চাহিদা এখন অনেক। ক্রেতাদের আগ্রহের জায়গায় পরিণত হয়েছে এটা, গত দুই বছর ধরে প্রচুর সাড়া পাচ্ছি আমরা। এটা এখন নতুন মিডিয়া—গ্রাহকরা ফোন করছেন, ভিজিট করছেন, বিক্রিও করছি আমরা প্রতিদিন। এনামুল হক বলেন, অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা প্রবাসে থাকেন। সেইসব মানুষকে সুবিধা দিতেই আমাদের এ আয়োজন।প্রবাসী মানুষটি অনলাইনেই গরুর ছবি দেখে অর্ডার করেন, পে করে দেন, আমরা চাহিদা অনুযায়ী বাড়িতে গরুটি পৌঁছে দেই।

বেসরকারি এক ব্যাংকে কর্মরত রাশেদুর রহমান রনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত বছর বাবার অসুস্থতার কারণে হাটে যেতে পারিনি। গরু কেনারই পরিকল্পনা এবং অবস্থাও ছিল না। কিন্তু বাড়ির বাচ্চারা খুব মন খারাপ করে ছিল।ওদের দিকে তাকিয়েই শেষ মুহূর্তেই অনলাইনে দেখে একটি গরু কিনি। প্রথমবার এভাবে কেনাতে একটু সংশয় থাকলেও গরুটি দেখার পর মন ভালো হয়ে গেছে, তাই এবারও আর হাটে যাবো না ভেবেছি।অনলাইনেই কিনে নেব বলেন রাশেদুর রহমান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর