তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা
তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৯-০৮ ২০:৩৭:০৭
প্রিন্টঅ-অ+




দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা। উত্তরাঞ্চল থেকে যাঁরা ঢাকায় আসছেন, তাঁরা যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন, ঢাকা থেকে ওই দিকে যাওয়া মানুষও একই ভোগান্তিতে রয়েছেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গরু ও মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে।

গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের পাকুল্যা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আকবর বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আজ সকাল থেকে পুলিশের প্রায় এক হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। যানজট নিরসনে কমিউনিটি পুলিশের ১ হাজার ২০০ সদস্য ভোর থেকে কাজ করছেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চন্দ্রা মোড়ে গিয়ে ঢাকা বিভাগীয় পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নুরুজ্জামান বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশকে রাস্তায় থাকতে বলা হয়েছে। এই দুই মহাসড়কে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পুলিশ সদস্য ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

যানবাহনের ভুক্তভোগী চালক, যাত্রী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আমাদের মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি সোহেল মোহসীন জানান, বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন বিকল ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে গতকাল বুধবার দিনভর মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট লাগে। বিকেলের দিকে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করলে যানজটও কমতে শুরু করে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে পশুবোঝাই ট্রাকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে মহাসড়কের গোড়াই, ধেরুয়া, দেওহাটা, মির্জাপুর, শুভুল্যা, কদিমধল্যা এলাকায় থেমে থেমে যানজট লাগে। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাঐখোলা এলাকার হাইপ্রেসার সিএনজির কাছে ঢাকাগামী একটি লরির সঙ্গে বিপরীতমুখী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে রাস্তার ওপর দুটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়েছিল। এতে যানজট লাগে। মহাসড়কে যানজট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে রাতে যানজট মির্জাপুরের গোড়াইয়ের ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নেয়। এরপর আবার যান চলাচল শুরু হয়।

আজ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করে। তবে মহাসড়কের শুভুল্যা এলাকায় দুটি ও মির্জাপুরে একটি ট্রাক বিকল হওয়াতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া সকাল আটটার দিকে মহাসড়কের করাতিপাড়া মাদারজানী সেতুর কাছে পেছন থেকে একটি ট্রাক আরেকটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তার ওপর সামনের ট্রাকটি আড়াআড়ি হয়ে পড়ে যায়। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে নাটিয়াপাড়া থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের রেকারচালক আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, সকাল সোয়া নয়টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি রাস্তার ওপর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যানবাহন চলতে শুরু করে।

যানজটে দুর্ভোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে কুষ্টিয়া থেকে চট্টগ্রামগামী গরুবোঝাই ট্রাকচালকের সহকারী সুকান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, গতকাল রাত ১১টার দিকে তাঁরা বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে যানজটে পড়েন। সেখান থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত মাত্র দেড় ঘণ্টার রাস্তা নয় ঘণ্টায় পার হন।

বর্তমানে মহাসড়কের কদিমধল্যা থেকে গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং নাটিয়াপাড়া থেকে ভাতকুড়া পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজট রয়েছে।

মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আসলে চালকদের মানসিকতার ওপর যানজটের বিষয়টি নির্ভর করে। তাঁরা যদি নিয়ম মেনে যানবাহন চালান, তাহলে যানজট লাগার কথা নয়। এ ছাড়া মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বিকল হওয়া যানবাহনগুলো সরিয়ে নিতে কিছুটা দেরি হয়। এ সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে যানজট লাগে। তবে পুলিশ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর