‘২০২১ সালে আইসিটির শহর হবে কক্সবাজার’
‘২০২১ সালে আইসিটির শহর হবে কক্সবাজার’
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-০৮ ০৭:১১:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


২০২১ সালে কক্সবাজার আইসিটির শহর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী গড়ে উঠেছে। তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকার কারণে এইসব পর্যটন নগরীর তথ্য সহজে পৌঁছে যাচ্ছে সারাবিশ্বের ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে। দ্রুত এসব এগুচ্ছে পর্যটন। কক্সবাজারের মতো দীর্ঘতম ও মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকত বিশ্বের কোথাও নেই। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কারণে পর্যটনের বিকাশে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যটন নগরীকে বিশ্বের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য আইসিটি সমৃদ্ধ শহর গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আধুনিক পর্যটন নগরীর সঙ্গে আইসিটির শহর হবে কক্সবাজার।

বুধবার বিকেলে কক্সবাজার বিয়াম মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিবিসি) লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প আয়োজিত ‘আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প-২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে ৬ টি সফ্টওয়ার টেনকোলজি পার্ক (হাইটেক পার্ক) নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের রামুতে প্রায় ৯ একর জমির ওপর একটি হাইটেক পার্ক নির্মিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওই জায়গার সম্ভাবতা যাচাই করে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই একনেকে প্রধানমন্ত্রী এক প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেবেন। এরপর নির্মাণ কাজ শুরু হবে ওই হাইটেক পার্কের। এই পার্ক নির্মিত হলে তরুণ প্রজন্ম আইটিতে দক্ষ হয়ে কক্সবাজার পর্যটন নগরীকে সারা বিশ্বের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আইটিতে একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলছে। আগামী তিন বছরে শুধুমাত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আইসিটিতে এক লাখ দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে উঠবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী, লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণের জন্য একুশ শতকের উপযোগি দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এলআইসিটি প্রকল্পে ৪৪ হাজার দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ হাজার বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে স্নাতক তরুণ তরুণীকে টপ আপ আইটি এবং নন আইটি বিষয়ে অধ্যয়নরত ২০ হাজার তরুণ-তরুণীকে ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং। টপ-আপ আইটি প্রশিক্ষণ শেষে অন্তত ৬০ শতাংশের কর্মসংস্থান হবে দেশে ও বিদেশে। এছাড়াও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আয়ের সুযোগ করে দেয়ার জন্য আরো ১০ হাজার তরুণ-তরুণীকে উন্নত প্রশিক্ষণে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের আইটিতে ক্যারিয়ার গড়া এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলার আহ্বান জানিয়ে পলক বলেন, বিগত সাড়ে সাত বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সাধিত হওয়া তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আপনাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ক্যারিয়ার ক্যাম্পে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, সিটি কলেজ ও মহিলা কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর