নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে মন্দা কাটছে না
নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে মন্দা কাটছে না
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২২ ১৮:৫২:০২
প্রিন্টঅ-অ+


আবাসন খাতের চাহিদা কমে যাওয়ায় নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে মন্দা কাটেনি। বর্ষা শেষে নির্মাণ মৌসুম শুরু হলেও গতি ফেরেনি রড, সিমেন্ট, ইট ও বালু কেনাবেচায়। এতে রড-সিমেন্টের দামও কমেছে। গত বছরেরর একই সময়ের চেয়ে এখন টনপ্রতি রডের দাম কমেছে ১০ হাজার টাকা। সিমেন্টে বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমেছে। সব ধরনের নির্মাণ সমাগ্রীর বেচাকেনাও কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

আবাসন খাতে গতি না ফেরায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, বাজার ঘুরে না দাঁড়ালে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আবাসন খাতের পশ্চাৎপদ সংযোগ শিল্পের অনেক কারখানা। এতে বেকার হয়ে পড়বেন অনেকেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় বাসা, বাড়ি ও মার্কেট তৈরির জন্য এতদিন বেশি ব্যবহার হতো ইট, সিমেন্ট, বালু ও রডসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী। তবে এখন তা কমে কেবল সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও স্থাপনা তৈরির ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। সরকারের বেশ কিছু বড় উন্নয়ন প্রকল্প চালু থাকায় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সরাসরি সেখানে পণ্য সরবরাহ করে টিকে আছে। এতে বেকায়দায় পড়েছে দেশব্যাপী নির্মাণ সামগ্রীর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা।

যদিও বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত নির্মাণ কাজের সময় ধরে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু বিক্রি কম থাকায় পাইকারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রয়েছেন চরম বিপাকে। তাদের বেচাকেনা অন্য সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম হচ্ছে।

রড ও সিমেন্টসহ নির্মাণ উপকরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আনোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে এখন দুরবস্থা যাচ্ছে। বেচাকেনা নেই বললেই চলে। যেটুকু বেচাকেনা হচ্ছে তা কেবল সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প কেন্দ্রিক। আবাসন খাতের উন্নয়ন না হলে এ অবস্থার পরিবর্তন আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জমি ও প্লটের নিবন্ধন খরচ ও কর বেড়েছে। অথচ বাসস্থান মৌলিক অধিকার হিসেবে তা কমানো উচিত। তা ছাড়া ঢাকার বাইরে আবাসনের জন্য যোগাযোগ উন্নয়ন ও সহজীকরণ করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে এ খাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসের ব্যবধানে রডে টনপ্রতি গড়ে তিন হাজার টাকা দাম কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ গ্রেড ৫০ থেকে ৫৩ হাজার টাকা, ৪০ গ্রেড ৪৩ থেকে ৪৪ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে দাম কমেছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬০ গ্রেড ৬০ থেকে ৬৩ হাজার টাকা, ৪০ গ্রেড ৫২ থেকে ৫৩ হাজার টাকা ও নন-গ্রেড ৪৭ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তা ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট বস্তাপ্রতি ৪১০ থেকে ৪৪০ টাকা এবং প্রতি হাজার ইট ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে সিমেন্ট ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ইট মান ভেদে ৮ হাজার ও ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে বালু, পাথর ও টাইলসসহ অন্যান্য উপকরণের দাম এবার স্থিতিশীল রয়েছে।

রাজধানীর নয়া বাজারের আয়রন স্টিলের ব্যবসায়ী মো. জলিল সমকালকে বলেন, নির্মাণ মৌসুম শুরুর এ সময়ে নতুন ইট আসা শুরু হলেও রডের বেচাকেনা বাড়েনি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে এক টন রড বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরের এ সময়ে মন্দার মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে দুই টনের বেশি রড বিক্রি হয়েছে। এমন সংকট চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাবুল বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ হওয়ায় কিছুটা ভালোর দিকে যাওয়ার আশা ছিল। তবে অন্যান্য খাতের ব্যবসায় উন্নতি হলেও নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসার দুরবস্থা কাটছে না। আবাসন খাতের মন্দার কারণে এ শিল্প সংকটে রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক রোলিং মিল বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নতুন করে আরও বন্ধ হবে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের কাছে বিশেষ সুবিধার দাবি করেন তিনি।
(মিরাজ শামস)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর