বাংলাদেশ-ভারতসহ আট দেশ জিকা ভাইরাস-এর ঝুঁকিতে
বাংলাদেশ-ভারতসহ আট দেশ জিকা ভাইরাস-এর ঝুঁকিতে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-০৩ ০৯:২৩:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ-ভারতসহ আট দেশ মশাবাহিত রোগ জিকা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সীমিত স্বাস্থ্যসম্পদ বা সেবার কারণে দেশগুলো ঝুঁকির তালিকার শীর্ষে আছে। গবেষকদের দাবি, এশিয়া ও আফ্রিকায় এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে ২৬০ কোটি মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। লানচেট ইনফেকশন ডিজিজেস পত্রিকা এমনটাই জানিয়েছে। খবর এপি ও এএনআই নিউজের।

সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১১৫ বিদেশি শ্রমিক জিকায় আক্রান্ত হয়েছেন; তাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি। গত বৃহস্পতিবার এ খবরের পরই দেশের প্রবেশপথগুলোয় সতর্কতা জারি করা হয়। এ ভাইরাস নিয়ে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

জিকার ঝুঁকিতে থাকা অন্য ছয়টি দেশ হলো_ চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান। দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়ার জনগণ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে মনে করেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, দেশগুলোতে পর্যটকদের সংখ্যার কারণে এই ঝুঁকি বেশি। গবেষকরা তাদের অনুমানের সমর্থনে আকাশপথে যাতায়াতকারীদের তথ্য ব্যবহার করেন।

লন্ডনের স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর গবেষকদের নিয়ে গঠিত গবেষক দলটি আরও বলেছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ এমন পরিবেশে বসবাস করেন; যেখানে তা প্রতিরোধ, শনাক্ত ও চিকিৎসা করা বেশ কঠিন।

গবেষকরা এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখেন, দক্ষিণ আমেরিকার জিকা আক্রান্ত অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আফ্রিকা ও এশিয়ায় ভ্রমণ করেন। ভ্রমণকারীদের একটি অংশও জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হতে পারে। আর ওই অঞ্চলগুলোর আবহাওয়াও জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে অনুকূল। স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক উপকরণ সীমিত থাকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামেও এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। গবেষক ড. কামরান খান বলেন, কোনো দেশের জনসংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়টিও জিকা মোকাবেলায় খুব জরুরি।


আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই
-----------------------

শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত করতে স্থাপিত স্ক্যানিং মেশিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের মানুষ যাতায়াত করে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

মন্ত্রী জানান, কারও শরীরে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে সরকারি খরচে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সব বিমান, নৌ, স্থলবন্দরসহ প্রতিটি প্রবেশদ্বারে এরই মধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বিমান কুমার সাহা, অতিরিক্ত সচিব ফয়েজ আহম্মদ, আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর