অ্যাপলের লোকসানে বিশ্বের লাভ!
অ্যাপলের লোকসানে বিশ্বের লাভ!
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৯-০১ ১৮:০৯:৩০
প্রিন্টঅ-অ+


অ্যাপলকে ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার কর দিতে হবে কেন? এ নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। ব্যাখ্যাটি জানলে অ্যাপল ও ইসির কর দ্বন্দ্বকে মনে হতে পারে অবাস্তব কিছু।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যাপল-ইসির কর দ্বন্দ্ব। মার্কিন আইফোন নির্মাতার করের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক যেমন হচ্ছে, তেমনি কিছু প্রশ্নও তুলেছেন বিশ্লেষকরা। কর্মী, অফিস অথবা কোনো দেশে নিবন্ধন ছাড়া কেমন করে একটি কোম্পানি গঠন করল অ্যাপল? আয়ারল্যান্ডই বা কেন একবার নয় দুবার জানিয়েছিল এভাবে কোম্পানি গঠন বৈধ? ইসি বলছে, ২০১৪ সাল সময় পর্যন্ত কর দিতে হবে অ্যাপলকে। সেই কর কেন আয়ারল্যান্ড সংগ্রহ করতে চাইছে না? এ প্রশ্নগুলোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর এড়ানো রোধে পথপ্রদর্শক হিসেবে মঙ্গলবার এ দ্বন্দ্ব শুরু করেন ইসির কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্তেগার। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিটজ বিষয়টিকে অভিহিত করছেন ‘বিশ্বায়নের অন্ধকার প্রান্ত’ বলে। আর এ কর দ্বন্দ্বে জড়িত রাজনীতিও। একজোট হয়ে রাজনীতিকরা আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধাচরণ করতে পারেন। কিন্তু নিজেরা একে অন্যের প্রতিপক্ষ হয়ে গেলে করের হার ও প্রাপ্তির অঙ্ক কমে যাবে। ফলে সরকারি ঘাটতি বাড়বে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারই একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক। তিনি লেখেন, অ্যায়ারল্যান্ডে শীর্ষ করদাতা অ্যাপল, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বেরও শীর্ষ করদাতা।

আয়ারল্যান্ডের কর কর্তৃপক্ষ একবার নয়, দুই দুইবার রায় দিয়েছে যে অ্যাপলের কোম্পানি গঠন পদ্ধতি ছিল বৈধ। কুক বলছেন, ইউরোপে অ্যাপলের ইতিহাস নতুন করে লিখছে ইসি। এতে থাকছে না আয়ারল্যান্ডের করনীতি ও প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থা। এ অবস্থায় অ্যাপল ও আইরিশ সরকার ইসির নীতিমালার বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছে।
কোম্পানিগুলো আর্থিক জালিয়াতির আশ্রয় নিলে দুভাবে আর্থিক কৃষ্ণ গহ্বরের সৃষ্টি হয়। প্রথমত. আয়ারল্যান্ডে অ্যাপল যে পদ্ধতিতে কোম্পানি খুলেছে, সেভাবে কোম্পানি গঠন করা হলে বোঝাই যায় না কোথায় অর্থ চলে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত. করস্বর্গ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় প্রথম দিকে থাকে ছোট দ্বীপরাষ্ট্র যেমন বারমুডা ও চ্যানেল আইল্যান্ডস। ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতায় নামে বড় দেশ যেমন আয়ারল্যান্ড।
এ কারণেই অনেক মার্কিন বহুজাতিক ইউরোপে তাদের করের বোঝা কমাতে ছোট ছোট দেশে কোম্পানি নিবন্ধন করে। কোম্পানিগুলোর আর্থিক শক্তি এতটাই প্রবল যে, ছোট দেশগুলো করহার কমাতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমে যায়। এক দেশ করহার কমালে আরেক দেশও তাকে অনুসরণ করে।

এর যথার্থ দৃষ্টান্ত পাওয়া গিয়েছিল ব্রেক্সিট ভোটের পর। ‘যুক্তরাজ্য ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ বিনিয়োগকারীদের তা বোঝানোর জন্য ওই সময় ব্রিটিশ চ্যান্সেলর জর্জ অসবর্ন করপোরেশন কর ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ করলে ব্যবসা সম্প্রসারণ কঠিন হতে পারে বলে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। তখন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্রিটেনে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে এ প্রতিশ্রুতি দেন অসবর্ন। যাহোক, আয়ারল্যান্ডের সরকার অ্যাপলের কাছ থেকে কর নিতে অস্বীকার করেছে, যদিও ইসি কমিশনার ভেস্তেগার বলছেন, অ্যাপল এ পরিমাণ কর দিতে বাধ্য। এক্ষেত্রে আইরিশ সরকারের বক্তব্য— তারা কর আইন সঠিকভাবেই মেনে চলেছেন, কোনো অন্যায্য সুবিধা অ্যাপলকে দেয়া হয়নি। কিন্তু ভেতরের কথা হচ্ছে, আইরিশ সরকার ভীত। অ্যাপলের ওপর ন্যায্য হারে করারোপ করা হলে দেশটি করস্বর্গ হিসেবে ইউরোপে যে অবস্থান গড়ে তুলেছে, তাতে ছেদ পড়বে। কারণ গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট, টুইটার, উবারসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আয়ারল্যান্ড থেকেই। কেন? সে উত্তর খুবই সোজাসাপ্টা— কর ফাঁকি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর