চিরঞ্জীব আলতাফ মাহমুদ
চিরঞ্জীব আলতাফ মাহমুদ
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৮-৩১ ০২:৪২:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+


সংগীতের সঙ্গে আলতাফ মাহমুদের সখ্য শৈশব থেকেই। অসাধারণ দরদ দিয়ে গান করতেন। বরিশাল জেলা স্কুলে পড়ার সময় থেকেই গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করে নেন। সে সময় থেকেই গণসংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হন। বিখ্যাত বেহালাবাদক সুরেন রায় তাঁকে গান শিখিয়েছেন।
আলতাফ মাহমুদ বরিশাল থেকে ঢাকায় আসেন ১৯৫০ সালে। ‘ধূমকেতু শিল্পী সংঘ’-এ যোগ দেন। এরপর ভাষা আন্দোলনের রং লাগে তাঁর শরীরে। ভাষাশহীদদের উদ্দেশে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি সুর করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী ঠাঁই করে নিয়েছেন।

১৯৫৬ সালে ভিয়েনায় আয়োজিত শান্তি সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। করাচি পর্যন্ত গিয়েছিলেনও, কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করায় তিনি আর যেতে পারেননি। ১৯৬৩ পর্যন্ত করাচিতেই ছিলেন। সেখানে তিনি ওস্তাদ আবদুল কাদের খাঁর কাছে উচ্চাঙ্গসংগীতে তালিম নেন। করাচি থেকে ঢাকায় ফিরে ১৯৬৫ সালের দিকে তিনি চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার কাজ শুরু করেন। তানহা, ক্যায়সে কহুঁ, কার বউসহ তাঁর সংগীত পরিচালনায় ১৯টি ছায়াছবি নির্মিত হয়।
‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’সহ অনেক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি দেশাত্মবোধক গান রচনা করেছেন। স্বাধীনতাকামী জনগণকে সে গান দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করত। মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থ ও খাদ্য দিয়েও তিনি প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতাসংগ্রামে সাহায্য করেন। ৩০ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার বাড়ি থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর সন্ধান আর পাওয়া যায়নি। একজন অসাধারণ সংগীতব্যক্তিত্ব হিসেবে আলতাফ মাহমুদ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিল্প সাহিত্য এর অারো খবর