বেশি কাজে অনেক ক্ষতি!
বেশি কাজে অনেক ক্ষতি!
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২২ ০৬:০৮:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


অনেক কাজ মানেই কি অনেক সফলতা, নাকি সেটা অনেক বড় ব্যার্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সমীক্ষা বলছে, যারা অতিরিক্ত কাজ করেন, প্রতিযোগিতার বা বাজারে সে অনুপাতে সাফল্যের হার অত্যন্ত খারাপ। অনেক ক্ষেত্রেই তারা একটা সময়ে গিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন কারণ তখন তারা উপলব্ধি করেন যদি তার কাজ বা কাজ সংক্রান্ত সাফল্য সরিয়ে দেখা যায় তাহলে তাদের জীবনে আর কিছুই থাকে না।

বার্ধক্য তাড়তাড়ি দরজায় কড়া নাড়ে। অন্যদিকে যারা নিজেদের জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত উপভোগ করেন আনন্দে জীবন কাটান তাদের বার্ধক্য আসে দেরিতে। তাছাড়া যারা অনেক বেশি কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু রোগ থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যার মধ্যে অন্যতম হল হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া। কারণ একে জীবনযাপন পদ্ধতির ধরন তার ওপর প্রতিযোগিতা, সারাক্ষণ উত্তেজনা, উৎকন্ঠার মধ্যে কাজ করা, ফলে হৃদরোগের সমস্যা হবে তা তো স্বাভাবিক। অতিরিক্ত কাজ করলে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকে চোখের নানা সমস্যা শুরু হয়। চোখ পাকাপাকিভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে।

পরিসংখ্যান বলে, অনেক বেশি কাজ করে এমন পুরুষদের একটা বিশাল অংশই নিজেদের সম্পর্কের টানাপোড়েনে পরিস্থিতি সামলাতে পারেন না। ফলস্বরূপ সম্পর্কের ভেঙ্গে যায়। সারাক্ষণ কাজ কাজ করতে থাকলে সঙ্গীকে সময় দেয়া সম্ভব হয় না। যা আপনার সঙ্গীর পক্ষে মেনে নওয়াটাও কষ্টকর হয়। আর এর ফলেই বিচ্ছেদ।

কাজ পাগল ব্যক্তিরা অনেক বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কারণ অত্যধিক পরিশ্রম করার পরও সাফল্য না আসে বা কাজের ক্ষেত্রে সুনাম সেভাবে না হয়, তাহলে তারা অতি সহজে ভেঙে পড়েন। এবং সেখান থেকে নিজেকে সামলে ফের লড়াইয়ের মনোভাবটা হারিয়ে যায়। সব কিছু নতুন করে শুরু করা কাজের উৎসাহ হারিয়ে যাবার একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক বেশি কাজ করা মানে হলো মস্তিষ্ককে অনেক বেশি ব্যস্ত রাখা। মস্তিষ্কেরও ঠিকঠাকমত বিশ্রাম দিতে না পারলে পরে সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ মস্তিষ্কের কাজের ক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসে। তাই পরিমিত কাজ পরিকল্পিতভাবে শেষ করা উচিৎ। দেখবেন কাঙ্খিত গন্তব্যে ঠিকই পৌঁছে গেছেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

লাইফ স্টাইল এর অারো খবর