জিম্বাবুয়ের সতর্কবার্তা
জিম্বাবুয়ের সতর্কবার্তা
২০১৫-১১-০৬ ১৫:৩৬:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+


প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে ভালো একটা মিথ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিতে গত তিন সিরিজে যারা প্রস্তুতি ম্যাচ জিতেছে, তারাই সিরিজ জিতেছে। তাহলে কি এ সিরিজ জিততে যাচ্ছে আফগানদের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে আসা জিম্বাবুয়ে!

প্রস্তুতি ম্যাচ জয় এবার সৌভাগ্য হিসেবে কাজ করবে কি-না সেটা কদিন পরই স্পষ্ট হবে। তবে এ ম্যাচে মাশরাফি-সাকিবদের জন্য যে সতর্কবাতা দিয়েছে জিম্বাবুয়ে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বিসিবি একাদশের ২৭৭ রানকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ৩ উইকেটে তাড়া করে ফেলে জিম্বাবুয়ে। বিসিবি একাদশের বোলাররা কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেননি আরভিন-উইলিয়ামসদের।


বিসিবি একাদশের ছন্দপতন হয়েছে আসলে ব্যাটিংয়ের সময়ই। কারণ এমন শুরুর পরও তিনশ করতে না পারাটা ব্যর্থতার পর্যায়েই পড়ে। স্বাগতিকদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, জিম্বাবুয়ের স্পিন মোকাবেলা করতে পারেনি তারা। যদিও আপাতদৃষ্টিতে কয়েকজন প্রস্তুতিটা ভালোই সেরেছেন বলে মনে হচ্ছে। ব্যাটিং অনুশীলনের জন্য এ ম্যাচ খেলা মুশফিক ৮৪ বলে অপরাজিত ৮১ রানের নিশ্ছিদ্র ইনিংস খেলেন। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়া ইমরুল কায়েস ও এনামুল হক বিজয়। সাবলীল ব্যাটিং এবং একটি সুযোগ কম দেওয়ায় হয়তো সৌম্য সরকারের বদলে ১৪ জনের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন ইমরুল। তবে ওয়ানডে স্কোয়াডে থাকা দুই ব্যাটসম্যান লিটন ও সাবি্বরের প্রস্তুতিটা ভালো হয়নি।

বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও ভালো করেছেন মাশরাফি। চার ওভারের প্রথম স্পেলে ম্যাচের একমাত্র মেডেন ওভারটি তার। ওই ওভারে দুটি সুযোগও সৃষ্টি করেছিলেন তিনি, তবে স্পিনাররা মোটেও ভালো করতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের আরভিন-উইলিয়ামস ভীষণ স্বচ্ছন্দের সঙ্গে খেলেছেন তাদের। এমন পারফরম্যান্সের পরও তুষ্ট হতে রাজি নন ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার ক্রেইগ আরভিন, এভাবে বেশ কয়েকটি উইকেট হাতে রেখে সহজ জয় দিয়ে সফর শুরু করা সত্যিকার অর্থেই দারুণ বিষয়। তবে এটা কেবলই একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলা মোটেও সহজ কাজ নয়।

আর হারকে খুব একটা পাত্তা দিতে রাজি নন বিসিবি একাদশের ইমরুল, এটা প্রস্তুতি ম্যাচ। হেরে যাওয়া বা জেতার চেয়েও বড় জিনিস হলো, মুশফিক বড় রান করেছে। আরও কয়েকজন রান পেয়েছে। প্র্যাকটিস ম্যাচে আসলে সবাইকে সুযোগ দেওয়া হয়। তাই ফলাফল নিয়ে এত বেশি চিন্তা না করাই ভালো।

সকালে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করেন বিসিবি একাদশের দুই ওপেনার ইমরুল ও বিজয়। প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন ইমরুল। প্রথম দিকে রানের চাকাটা তিনিই সচল রেখেছিলেন। অন্য প্রান্তে বিজয় সেট হতে সময় নিয়েছেন। ওপেনিং জুটিতে ১০৫ রান যোগ করেন তারা। লেগস্পিনার ক্রেমার আক্রমণে আসতেই শুরু হয় উইকেট পতন। তার প্রথম ওভারেই বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দিয়ে আসেন প্রথমে হাফ সেঞ্চুরিতে পেঁৗছা ইমরুল। পরের ওভারে বিজয়ও ক্রেমারকে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে যান। তবে আউট হওয়ার আগে বিজয় দুটি ও ইমরুল একটি ক্যাচ দিয়েছিলেন, যা জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা হাতে জমাতে পারেননি।

তিনে ব্যাটিং করতে নেমে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লিটন। জিম্বাবুইয়ান পেসার পানিয়াঙ্গারাকে সোজা ব্যাটে ছয় মারার পর ক্রেমারকে হাঁটু গেড়ে মিড উইকেট দিয়ে সীমানা ছাড়া করেছিলেন। তবে লেগস্পিনারকে ছয় মারার পরের বলে আবারও একই কায়দায় মারতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে বসেন লিটন। জাতীয় দলের আরেক তরুণ সাবি্বরও সহজ ক্যাচ দিয়ে আসেন। ইমরুল-বিজয়ের সূচনার পর মনে হচ্ছিল বিসিবি একাদশের রান সাড়ে তিনশ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় তারা।

আড়াইশও এক পর্যায়ে কঠিন মনে হচ্ছিল। এখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন মুশফিকুর রহিম ও শাহরিয়ার নাফীস। পঞ্চম উইকেটে ৭৮ বলে ৯০ রান যোগ করেন তারা। অনভ্যস্ত ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করতে এসে বেশ ভালোই খেলেন নাফীস। তিনি আউট হলে মুশফিক একাই দলকে টানেন। একপ্রান্ত থেকে তিনি রান তুললেও সঙ্গীর অভাবে শেষ দশ ওভারে মাত্র ৬৪ রান আসে।

জিম্বাবুয়ের সূচনাটা খুব একটা ভালো হয়নি। শফিউলের লাফিয়ে ওঠা বলে পয়েন্টে সাবি্বরের হাতে ক্যাচ দিয়ে আসেন মুতুম্বামি। আরেক ওপেনার চামু চিবাবাকে ফেরানোতেও ছিল শফিউলের ভূমিকা।

স্পিনার সানজামুলের বলে অনেকটা দৌড়ে এসে উল্টো দিকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরেন শফিউল। এর পরই শুরু হয় জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের আসল অধ্যায়। আরভিন ও উইলিয়ামস তৃতীয় উইকেটে দাপটের সঙ্গে ১৬২ রান তুলে জিম্বাবুয়েকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। দলের অবস্থা ভালো দেখেই ৫৪ রান করে স্বেচ্ছায় অবসরে যান উইলিয়ামস। আর আরভিন ৯৫ রান করে দলের জয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর