সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর
সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর
২০১৫-১১-২১ ১৯:৩৪:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+


একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা ৩০ মিনেটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপিনেতা সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর রাত ১২ টা ৪৫ মিনিটে মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন জল্লাদ—রাজু, শাজাহান, মুক্তার, ইকবাল, হজরত, সাজু ও আবুল। কারাসূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।

এর আগে রাত দশটার পর দুই জন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে প্রবেশ করেন। রাত ১০ টা ১৩ মিনিটের সময় আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ইফতেখার উদ্দিন কারাগারে প্রবেশ করেন। এরপর ১০টা ১৭ মিনিটে ঢাকার জেলা প্রশাসক তফাজ্জল হোসেন এবং ১০ টা ২৪ মিনিটের সময় সিভিল সার্জন কারাগারে প্রবেশ করেন।

এর আগে কারাগারের দুই চিকিৎসক বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস ও ডা. হাবীবুর রহমান তাদের দুই আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। রাত ১১টা ১০ মিনিটে দুই সাকা-মুজাহিদকে তওবা পড়াতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন কারাগার পুকুর পাড় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান।

এর আগে বৃহস্পতিবার একইসঙ্গে জামায়াতের শীর্ষনেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশের আপিলের রায় রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশ কারাগারে পৌঁছে। আগের দিন ১৮ নভেম্বর বুধবার এই দৃই মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামির রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে দুই পরিবারের সদস্যরাই কারাগারে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রথমে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার ও পরে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পরিবার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা গত ১ অক্টোবর এ দুজনের মৃত্যুপরোয়ানা দুটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (ঢাকার জেলা প্রশাসক) কাছে পৌঁছে দেন।

আপিল বিভাগ থেকে রায়ের কপি পাওয়ার পর মুজাহিদ-সাকার পৃথক দুই মৃত্যুপরোয়ানায় সই করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক এবং বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। এরপর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক।

মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার এবং সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিল মামলার রায়দানকারী চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশ করা হয়। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। রাতেই আপিল বিভাগ থেকে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে যায় পূর্ণাঙ্গ রায় দুটি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন একাত্তরের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর প্রধান মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৃশংসতম মানবতাবিরোধী অপরাধের হোতা সাকা চৌধুরীর মামলার সংক্ষিপ্ত চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চার সদস্যের একই আপিল বেঞ্চ পৃথক পৃথক এ রায় দেন। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামি পক্ষ রিভিউ করেন। শুনানি শেষে গত ১৮ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রিভিউয়ের আদেশ ঘোষণা করেন আদালত।

আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ মামলা
মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন, বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। ওই বছরের ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজার পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ২৯ এপ্রিল থেকে আপিল মামলার শুনানি শুরু হয়ে ২৭ মে মোট নয় কার্যদিবসে শেষ হয়। গত ১৬ জুন বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।
একই বছরের ২৯ অক্টোবর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। তবে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ১৬ জুন শুরু হয়ে ১৩ কার্যদিবসে আপিল শুনানি শেষ হয় গত ৭ জুলাই। ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর ফাঁসির চূড়ান্ত রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর