তথ্য প্রযুক্তি খাতের বিকাশে আসছে ‘টেন প্লাস টেন প্লাস টেন’
তথ্য প্রযুক্তি খাতের বিকাশে আসছে ‘টেন প্লাস টেন প্লাস টেন’
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৮-২৬ ০৫:৩৬:০১
প্রিন্টঅ-অ+


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিতে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ। আর প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘মিশন’ ২০১৮ সালের মধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে বাংলাদেশ। এই দুই লক্ষ্য পূরণ করতে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ‘টেন প্লাস টেন প্লাস টেন’ উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণকে তরান্বিত এবং লক্ষ্য পূরণে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তিনটি ক্যাটাগরি থেকে দেশের ৩০টি কোম্পানি নির্বাচন করব। এই ক্যাটাগরিতে থাকবে শীর্ষ ১০ আইটি রফতানিকারক কোম্পানি, শীর্ষ ১০টি থাকবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং শীর্ষ ১০টি স্টার্টআপ কোম্পানি। এই কোম্পনিগুলোর আরও বিকাশে কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, কোন ধরনের সমস্যা মোবাবিলা করতে হচ্ছে, আরও ভালো করতে কী প্রয়োজন, সেসব দেখা হবে।’
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘‘আইসিটি বিভাগের লিভারেজিং আইসিটি থেকে আমরা দলনেতা নির্বাচন করে দিয়েছি। তিনি ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়াদের নিয়ে একটি প্যানেল তৈরি করবেন। ওই প্যানেল ‘মিশন ওয়ান বিলিয়ন ডলার’ ঠিক করবেন।’ তিনি জানান, ‘দেশের ভেতরেই রয়েছে টাইগার আইটি, ডাটা সফট, দোহাটেক, অগমেডিক্সের মতো কোম্পানি। এসব কোম্পানির সাফল্য ইর্ষণীয়। এসব কোম্পানি আর কি চায় বা তাদের আরও বিকাশ ও সম্প্রসারণে আর কী কী প্রয়োজন—সেসব দেওয়া হবে।’

আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘টেন প্লাস টেন প্লাস টেন’ উদ্যোগে প্রথমেই থাকছে শীর্ষ ১০ আইটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান যাদের কোম্পানির আকার হয়তো ১০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিভাবে ১ হাজার মিলিয়নের কোম্পানি করা যায় সেই সহযোগিতা করা হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের মধ্যে বেছে নেওয়া হবে এমন ১০টি কোম্পানি যাদের কোম্পানি ভ্যালু এক মিলিয়ন ডলারের কম। যাদের সম্ভাবনা রয়েছে ভালো করার, বিজনেস প্ল্যান ভালো, আইডিয়া ভালো, ফোকাসড, কি করতে চায় এবং কিভাবে করবে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে, এমন সব কোম্পানিকে বেছে নেবে গঠিত ওই প্যানেল।

অন্যদিকে ১০টি স্টার্টআপ কোম্পানিকেও বেছে নেওয়া হবে যাদের কোম্পানি ভ্যালু ১০ হাজার ডলার। যাদের একটু সহযোগিতা করলে তারা হয়তো আগামী ৫ বছরের মধ্যে মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হয়ে যাবে। এধরনের প্রতিশ্রুতিশীল কোম্পানিগুলোকে প্যানেল বেছে নেবে বলে ওই সূত্র জানায়।

কী প্রক্রিয়ায়, কোন কোন কোম্পানিকে বেছে নেওয়া হবে, তা শিগিরই ঘোষণা করা হবে বলে আইসিটি বিভাগের ওই সূত্র জানায়। তবে বাছাই প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়, সে ব্যাপারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেতে হতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, কোন কোম্পানি ভালো করছে, কার আইটি রফতানি ভালো, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে কারা ভালো করছে, কারা বিশ্বে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। বাছাই প্রক্রিয়ায় এসব বিষয়ও প্রাধান্য পাবে বলে মনে করছে ওই সূত্র।

সূত্র আরও জানায়, দেশের বাইরে আইটি রফতানির পাশাপাশি দেশের অনেক কোম্পানি বিদেশের মাটিতে (সরকারি এবং বেসরকারিভাবে) ভালো কাজ করছে। ওইসব বিষয়কেও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর