জনপ্রশাসনে আবারও তিন স্তরের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু
জনপ্রশাসনে আবারও তিন স্তরের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু
২০১৬-০৮-২৫ ১৪:৪৯:২৪
প্রিন্টঅ-অ+


জনপ্রশাসনে আবারও তিন স্তরের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও এ ব্যাপারে মৌখিক অনুমতি মিলেছে। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠকে পদোন্নতির এ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরও কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব, উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে প্রশাসনে পদোন্নতির এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, তিন স্তরের পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি একটি রুটিন কাজ। পদোন্নতি নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা বিবেচনা করে দেওয়া হবে। তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধু এসিআর নয়, কর্মকর্তাদের অতীত জীবনও পর্যালোচনা করা হবে।

অপর একটি সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আগামী কয়েক দিন দেশে থাকবেন না। এ সময়ে এসএসবির বৈঠক হবে না। তিনি দেশে ফিরলে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বৈঠকে তালিকা চূড়ান্ত করে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে পেশ করা হবে। তিনি স্বাক্ষর করলে পরে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও প্রশাসনে তিন স্তরে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে মৌখিক অনুমতি মিলেছে। ঈদের পর পর্যায়ক্রমে কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত হবে।

যাদের বিবেচনা করা হবে :এবারের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সচিব পদে মূলত ১৯৮৬ বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৯৮৫ ও ১৯৮৪ ব্যাচের বাদপড়া কর্মকর্তাদেরও বিবেচনা করা হবে। যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির তালিকায় স্থান পাবেন প্রশাসনের ১১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা। এর বাইরে নবম ও দশম ব্যাচের বিগত সময়ের বাদপড়া কয়েকজন কর্মকর্তাও স্থান পেতে পারেন। উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মূল বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের ২১তম ও ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের। বিগত সময়ে বাদপড়া ১৭তম, ১৮তম ও ২০তম ব্যাচের বিভিন্ন কর্মকর্তাও স্থান পেতে পারেন পদোন্নতির তালিকায়।

চলতি বছরের মে মাসে প্রশাসনে তিন স্তরের পদোন্নতির তালিকায় বিগত সময়ে মূলত বাদপড়া কর্মকর্তারা স্থান পান। এর পর পদোন্নতিযোগ্য নতুন ব্যাচের কর্মকর্তারা পদোন্নতির দাবি তুলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেখা করেন। তখন পদোন্নতিযোগ্য নতুন ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে এসএসবি বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া :এদিকে, পদোন্নতির এ প্রক্রিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, কতিপয় কর্মকর্তাকে খুশি করতে এ পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। কারণ, প্রশাসনে এখন পদের চেয়ে কর্মকর্তার সংখ্যা দ্বিগুণ। পদোন্নতি পেয়েও কর্মকর্তাদের নিচের পদে কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন এ পদোন্নতির ফলে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলতা আরও বাড়বে। অন্যদিকে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তারা বলেন, পদোন্নতি একজন কর্মকর্তার অধিকার। যোগ্য হলে একজন কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন, এটিই স্বাভাবিক। তা না করা হলে তাকে বঞ্চিত করা হবে। সরকারি কাজকর্মেও এর প্রভাব পড়বে।

নিচের স্তরে কর্মকর্তা কম :ওপরের স্তরে পদের চেয়ে কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হলেও নিচের স্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব ও সহকারী সচিব (মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার) পর্যায়ের অনেক পদ এখনও ফাঁকা। বর্তমানে সিনিয়র সহকারী সচিব আছেন এক হাজার ৪৩৪ জন। কিন্তু পদ আছে প্রায় এক হাজার ৮০০। সহকারী সচিব (মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার) আছেন এক হাজার ৯৫ জন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই পদে আরও ৭০০ থেকে ৮০০ কর্মকর্তা দরকার। নিচের স্তরে কর্মকর্তার অভাবে সহকারী কমিশনারের (এসি-ল্যান্ড) প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য। বর্তমানে এসি-ল্যান্ডের মঞ্জুরি করা পদ আছে ৪৮৫। বিপরীতে কর্মরত আছেন অর্ধেকের কিছু বেশি কর্মকর্তা।

পদোন্নতির নিয়ম :চাকরিতে প্রবেশের ১০ বছর পর একজন কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্য হন। তবে পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী এ সময় চাকরিতে স্থায়ী হওয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিটি পরীক্ষার নম্বর, শ্রেণি, চাকরিকালের দক্ষতা, সুনাম, বদনাম, শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড এসব পরীক্ষা করে পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তার নাম সুপারিশ করে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা আদেশ আকারে জারি করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় থেকে প্রশাসনে দলীয়করণ শুরু হয়। এ সময় দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে পদোন্নতি, নিয়োগ, বদলি এমনকি চাকরিচ্যুতিও শুরু হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এ ধারা অব্যাহত থাকে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ ধারা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। ওই পাঁচ বছরে বিভিন্ন পদের দুই হাজার ৫০০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত রাখা হয়। সর্বোচ্চ এক হাজার ২৫৫ জনকে ওএসডি করা হয়, দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অকালীন অবসর দেওয়া হয়। মহাজোট সরকার ও এবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও অতীতের ধারাই অনুসরণ করা হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর