বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রকৌশলীদেরই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে: খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রকৌশলীদেরই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে: খন্দকার মোশাররফ হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৮-২৫ ০৩:৪০:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


“জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর এই শাহাদাৎ বার্ষিকীতে আমাদের উচিৎ হবে এই শপথ নেয়া যে, আমরা সকলে মিলে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখব এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা গড়ব। আর এই সোনার বাংলা বাস্তবায়নে আপনাদের প্রকৌশলীদেরই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে কারন আপানারাই দেশ গড়ার কারিগর। প্রকৌশলীবিহীন কোন দেশ বা সমাজ পৃথিবীর ছিল না। আপনারা যদি আপনাদের কাজে আরও মেধা ও শ্রম ব্যয় করেন তবে আমাদের উন্নয়নের যে গতি তা আরও ত্বরান্বিত হবে”।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের উদ্যোগে আজ ২৪ আগস্ট, ২০১৬ বুধবার বিকাল ৫ টায় আইইবি’র পুরাতন ভবনের সেমিনার রুমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে উক্ত অনুষ্ঠানের
প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি এই মন্তব্য করেন।

এছাড়াও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পাঁট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী জনাব মির্জা আজম।

সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সম্মানী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডঃ প্রকৌশলী এম হাবিবুর রহমান।

প্রথমেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু পথভ্রষ্ট সেনা সদস্য দ্বারা সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। সভায় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও আইইবি’র অন্যান্য বিভাগের নেতৃবৃন্দও অংশগ্রহণ করেন। সকলের বক্তব্যেই উঠে আসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং আত্মদানের কথা। বক্তারা বলেন, জাতি হিসেবে এটি আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এমন মহান নেতাকে আমাদের এত দ্রুত হারাতে হল স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আইইবি’র ঢাকা সেন্টারের সম্মানী চেয়ারম্যান মেসবাহুর রহমান টুটুল বলেন, “ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালের ধর্মের ভিত্তিতে দেশবিভাগের পরই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন পূর্বপাকিস্তান তার প্রকৃত স্বাধীনতা পায় নি। যার ভিত্তিতেই বঙ্গবন্ধু রচনা করেন বাংলাদেশের নীল নকশা মহান ৬ দফা। এই ৬ দফাই বাঙালিদের মনে জাগ্রত করেছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ”।

আরও বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর। তিনি বলেন, “আজকের দিনে আমি এতোটুকু বলতে পারি যে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর প্রকৌশলীরা এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের ভূমিকা পালন করে এসেছে। ১৯৮৭-৮৮ এর দিকে আমি যখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তখন তৎকালীন ছাত্রদল বঙ্গবন্ধুকে ভ্রতসনা করে ক্যাম্পাসে মিছিল মিটিং করে। আমরা তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এর বিরোধিতা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উল্টো আমাদের বহিষ্কৃত করে”।

এরপর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঞা। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তার হত্যাকারীরা ভেবেছিল সেই স্বপ্ন কখনো পুরন হবে না কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার দেখা সেই স্বপ্নকে দুর্বার গতিতে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার যে লক্ষ্য তিনি নিয়েছেন তা পূরণে আমাদের প্রকৌশলীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এরপর বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ডঃ এম হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আমি বলতে পারি বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত যে একমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল তার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। কারন একমুখী শিক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম বিকশিত হয়”।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পাঁট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী জনাব মির্জা আজম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি জাতির জন্য একটি আশীর্বাদ। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে ছোটবেলা থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দয়ালু, পরোপকারী, অধ্যবশায়ি এবং ত্যাগী। তার ৫৫ বছরের জীবদ্দশায় তিনি ১৫ বছর কাটিয়েছেন জেলে। জীবনের হুমকি এসেছিল অসংখ্যবার। মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্দী থাকাকালীন সময়ে এই মহান নেতাকে হত্যার হুমকি দিলেও তিনি বিন্দুমাত্র আপোষ করেন নি।

তিনি আরও বলেন, হাজার বছরের এই শ্রেষ্ঠ বাঙালির নির্মম হত্যাকাণ্ড কিছু বিপথগ্রস্ত সেনারা ঘটালেও এর কুশীলব ছিলেন জিয়াউর রহমান এবং খন্দকার মোশতাক। তারা ভেবেছিলেন বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর পথে আর বাধা রইল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার প্রক্রিয়া আবারো শুরু করেন। তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশের অর্থনীতির যে নাজুক অবস্থা ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর তা ব্যাপক পরিবর্তিত হয়েছে। আমরা এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। শেখ হাসিনার যে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবার রূপকল্প তা অর্জন করা খুবই সম্ভব”।






ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর