অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণ: পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণ: পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-২৪ ০৬:৫৩:১৩
প্রিন্টঅ-অ+


চট্টগ্রামে ড্যাপ (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের অ্যামোনিয়ার ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়ে আশেপাশের এলাকায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা।

অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণজানা গেছে, সার কারখানায় দুইটি প্ল্যান্টে অ্যামোনিয়া গ্যাসের তিনটি রিজার্ভ ট্যাঙ্ক রয়েছে। এর মধ্যে সবচে বড়টি ৫ হাজার টন অ্যামোনিয়া গ্যাস ধারণ করতে পারে। বাকি দুইটির ধারণক্ষমতা ৫০০ টন করে, যার একটি বিস্ফোরিত হয়। তবে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৫০ টন অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্যাস বিস্ফোরণের এলাকা রাঙাদিয়াসহ আশেপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওইসব এলাকার ঘেরের প্রায় সব মাছই মরে ভেসে উঠছে। গ্যাসের কারণে গাছপালাও কালো হয়ে গেছে, পাশাপাশি বাতাসও রয়েছে ঝাঁঝালো।

স্থানীয় মৎস্যচাষী আবদুল জলিল জানান, এসব এলাকার অধিকাংশ লোকজন মাছচাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। গ্যাস নিঃসরণের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। ইতোমধ্যেই অনেক মাছ মরে ভেসে উঠেছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া দুর্ঘটনার পর গ্যাস মিশ্রিত পানি কর্ণফুলী নদীসহ আশেপাশের জলাশয়গুলোতে মিশে যাওয়ায় শঙ্কিত পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এই কারখানার গ্যাস দূষণ থেকে নদীর পানি রেহাই পাবে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপর থেকে বৃষ্টি ছড়িয়ে যেভাবে অ্যামোনিয়া গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাতে পানির সঙ্গে গ্যাস নদীতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতির সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তারা।

চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাস অন্যসব রাসায়নিক উপাদানের চেয়ে অনেক বেশি বিকিরণক্ষম। এ থেকে ক্ষতির আশঙ্কাও বেশি।

এই নদী বিশেষজ্ঞ আরও জানান, অ্যামোনিয়া বেশি ক্ষয়কারক। নদীর পানির সঙ্গে মিশে তা পানির জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এমনকি দ্রবীভূত না হয়েও অ্যামোনিয়া অনেক দূরে বয়ে যেতে পারে। যা ক্ষতির সম্ভবনাকেই বাড়িয়ে তোলে। এটি পানির পিএইচ বাড়িয়ে দেবে।

যদিও এই শঙ্কার বিষয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘বিসিআইসি ও কাফকোর রসায়নবিদরা এ ঘটনায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। তারা এলাকার বাতাস ও পানির বিষয়েও সজাগ রয়েছেন। কোনও দূষিত পানি নদী বা জলাশয়ে যাচ্ছে না।’

জেলার মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আক্রান্ত এলাকা পরদর্শনে গিয়ে আমি মাছচাষীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় ঘেরের অনেক মাছচাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের (ডিওই) তিন সদস্যও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ডিওই’র চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা জানান, ডিএপি কারখানাটি ২০১০ সালের ২৮ মার্চ পরিবেশগত ছাড়পত্র লাভ করে এবং ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত তা নবায়ন করা আছে। তারপরও এ ঘটনায় কামরুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলের পানির অবস্থা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় আমাদের পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে ড্যাপ (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের একটি সার কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়ে আশেপাশের এলাকায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। রবিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অ্যামোনিয়া গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৬০ ব্যক্তি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর