ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে অ্যামাজন
ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে অ্যামাজন
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-১৯ ১৮:৪০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী তিন কোম্পানি অ্যাপল, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন। এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে কে সবার আগে ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলার বাজারমূল্যের মাইলফলক স্পর্শ করবে? সামগ্রিক ব্যবসায় নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজনকেই এগিয়ে রাখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস ইনসাইডার।

বাজারমূল্যে ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে একটি কোম্পানির কী থাকা প্রয়োজন? সর্বাগ্রে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, এমন সব খাতে ওই কোম্পানির ব্যাপক বাজার তৈরির সুযোগ থাকা এবং প্রাধান্য বিস্তারের জন্য দৃঢ় অবস্থান তৈরির সার্বিক চেষ্টা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের যেসব কোম্পানি এ বিষয়গুলো অনুসরণ করছে, তারাই খাতটি থেকে রাজস্ব আয়ে এগিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতে এক সফল আয়ের মৌসুমের প্রাক্কালে এমনটা ঘটেছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল, গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট এবং ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজনের ক্ষেত্রে। প্রযুক্তি খাতের এই তিন মহারথীর বাজারমূল্য বর্তমানে ৫০ হাজার কোটি বা অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি বা কমের মধ্যে রয়েছে।

অ্যাপল: বাজারমূল্যে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি এটি। প্রচলিত বাক্য; অ্যাপল হলো অর্থের সরোবর। ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি শুধু মুনাফা করেছে ১ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার। অ্যাপলের ইতিহাসে ওই প্রান্তিকটি ছিল অত্যন্ত লাভজনক এবং রেকর্ড সৃষ্টিকারী। সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এবং মুনাফার অঙ্ক বিবেচনায় এটাই প্রতীয়মান হয়— ব্যক্তি খাতের কোম্পানি হিসেবে বাজারমূল্যে ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারে পৌঁছানোর দৌড়ে এ কোম্পানিই বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু বাজারমূল্যে উল্লিখিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর বিষয়টি নির্ভর করছে অ্যাপলের রাজস্ব ও মুনাফা প্রবৃদ্ধির ওপর। অর্থাত্ বাজারমূল্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছতে হলে বর্তমানের চেয়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর আরো ৭৫ শতাংশ বাড়াতে হবে। এ পার্থক্য অণুমাত্র শব্দ হতে পারে। বর্তমান বাজার বিবেচনায় অ্যাপলের জন্য শেয়ারদরে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন মোটেও নিছক ঘটনা নয়।

বলা হচ্ছে, জনপ্রিয় আইফোন উন্মোচনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফের চমক সৃষ্টি করবে অ্যাপল। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচন করে সাড়া ফেলেছিল এ কোম্পানি। এর ১০ বছর পর স্মার্টফোন দুনিয়ায় আবার চমক দিতে যাচ্ছে। যদিও এর সবই গুজবনির্ভর আলোচনা। এটা বাস্তব হলেও এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো এক বছর। পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট টাইটান’-এর আওতায় ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরিতে কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ঘটাবে; যা কোম্পানিটিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের দ্বারে পৌঁছে দেবে। বিশ্লেষকদের স্পষ্ট জবাব, বাজারমূল্যের এ দৌড়ে অ্যাপল এক বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থীই মাত্র। ঐতিহাসিক এ মাইলফলক অতিক্রম করতে হলে শুধু আইফোন নয়; সামগ্রিক পণ্য বৈচিত্র্যে পরিবর্তন আনতে হবে।

অ্যালফাবেট: গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট অ্যাপলের মতোই অর্থ উপার্জনের মেশিন। বর্তমান প্রযুক্তি বাজারের বিভিন্ন খাতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আছে এ কোম্পানি। ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর আয়ের বড় একটি উত্স অনলাইন বিজ্ঞাপন। খাতটিতে এরই মধ্যে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে অ্যালফাবেট। সম্প্রতি ব্যাংক অব আমেরিকার এক গবেষণা প্রতিবেদনে অ্যালফাবেটকে বর্তমান রাজস্ব ও মুনাফা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। যেখানে আগামী দুই বছর এ কোম্পানির বিক্রি এবং মুনাফায় ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার প্রত্যাশা করা হয়। এটা সম্ভব হলে, ২০১৮ সাল নাগাদ অ্যালফাবেটের রাজস্ব পৌঁছবে ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে এবং নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে। কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধির এ ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী দুই বছর শেষে বাজারমূল্য পৌঁছবে ৯৫ হাজার কোটি ডলারে। যা অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

অ্যামাজন: দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ধারা বিবেচনায় ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজনকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। ই-মার্কেটারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সাল নাগাদ বৈশ্বিক খুচরা বিক্রয়ের বাজার ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে মাত্র ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হবে ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে। অ্যামাজন গোটা বিশ্বে সাশ্রয়ী ই-কমার্স সুবিধা দিচ্ছে। মার্কিন কোম্পানিটির এক নীতিই ই-কমার্স খাতে দৃঢ় অবস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। অনলাইন মার্কেট প্লেসে দিনকে দিন এর দখল বাড়ছে। ই-কমার্সের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার ও ক্লাউড কম্পিউটিং সফটওয়্যার বাজারেও সমানভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। এক্ষেত্রেও সাশ্রয়ী মূল্যনীতি অনুসরণ করছে অ্যামাজন। নিজস্ব হার্ডওয়্যার ও ক্লাউড কম্পিউটিং সফটওয়্যার এবং এই সেবাগুলোকে ই-কমার্সের সঙ্গে একত্রীকরণ অ্যামাজনের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির দ্বার উন্মুক্ত করছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর