"বঙ্গবন্ধুর মত প্রজ্ঞাবান এবং দূরদর্শী নেতা সারা বিশ্বে বিরল"-ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী
"বঙ্গবন্ধুর মত প্রজ্ঞাবান এবং দূরদর্শী নেতা সারা বিশ্বে বিরল"-ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৮-১৯ ০৬:৪০:১৩
প্রিন্টঅ-অ+


“যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি তখন মাত্র গড়ে উঠতে শুরু করেছে। দেশের মানুষ তখনও খাদ্য সংকটে ভুগছে। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ৫ টি গ্যাসক্ষেত্র ক্রয় করেছিলেন। ঐ সময়ে বঙ্গবন্ধুর এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে অযৌক্তিক ঠেকলেও বঙ্গবন্ধু তার প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা দিয়ে তাদের ভুল প্রমাণ করে গেছেন। সেই ৫ টি গ্যাসক্ষেত্রে এখনও প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি গ্যাস মজুদ আছে। যা দিয়ে আরও এক প্রজন্মের গ্যাসের চাহিদা মেটানো যাবে। এতেই বোঝা যায় বঙ্গবন্ধুর মত প্রজ্ঞাবান এবং দূরদর্শী নেতা কেন সারা বিশ্বে এত বিরল" ।
জাতীয় শোক দিবস ও জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে গতকাল ১৮ আগস্ট, ২০১৬ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের উদ্যোগে আইইবি অডিটরিয়ামে “National Energy Security of Bnagladesh, Destination- Bangabandhu’s Sonar Bangla”- শীর্ষকসেমিনারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের উপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনা এবং ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী করা হয়। আর ৯ আগস্ট জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে “National Energy Security of Bnagladesh, Destination- Bangabandhu’s Sonar Bangla”- শীর্ষকসেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মোঃ কবির আহমেদ ভূঞা, মাননীয় প্রেসিডেন্ট, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এবং প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সবুর, আইইবি’র সম্মানী সাধারণ সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ।
সেমিনারে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
তিনি বলেন, “আজকের এই শোকের দিনে আমি ১৫ আগস্ট কিছু পথভ্রষ্ট সেনা সদস্যদের দ্বারা নিহত বাংলাদেশের স্থপতি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে আমার বক্তব্য শুরু করছি।
বঙ্গবন্ধুর মত একজন মহান নেতার সাথে কাজ করা একটি ভাগ্যের বিষয়। তাই, আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি যে তার মতন একজন ব্যক্তিত্বের পাশে থেকে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি প্রায় ৩ বছর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছি”।
তিনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অসংখ্য স্মৃতিচারণা করেন। এসময় ডঃ মসিউর রহমান প্রায়ই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ছিলেন।
তিনি বলেন, “মাত্র ৯ মাসে দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ পেলেন তা ছিল আক্ষরিক অর্থেই একটি ধ্বংসস্তূপ। দেশে ছিলনা প্রশাসনিক কোন কাঠামো, ছিলনা কোন অর্থনৈতিক কাঠামো, ছিলনা কোন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অর্থাৎ, শুন্য থেকে যেই বাংলাদেশের শুরু সেই বাংলাদেশের ত্রাণকর্তা তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিনিয়ত তিনি কাজ করে গেছেন কীভাবে এবং কত দ্রুত দেশের অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক একটি কাঠামো দাড় করানো যায়। বিভিন্ন দেশ সাহায্যের জন্য তখন আহ্বান জানাচ্ছিল কিন্তু সেসব সাহায্যের সাথে তারা যুক্ত করে দিত নানা ধরনের শর্ত যা কি না বাংলাদেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই, বঙ্গবন্ধু সেইসব প্রলুব্ধকর সাহায্যের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে কাজ করে গেছেন দেশের মানুষকে নিয়ে”।
এরপর রাকিবুল হাসানের পরিচালনায় এবং আইইবি ঢাকা সেন্টারের প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। এতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম, শৈশব এবং বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের উপর আলোকপাত করা হয়।
অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে ৯ আগস্ট জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে জ্বালানী নিরাপত্তা বিষয়ে সেমিনার পরিচালনা করেন আইইবি ঢাকা সেন্টারের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মেসবাহুর রহমান টুটুল।

তিনি বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তার ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা এবং এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করেন। পাশাপাশি কি নীতি অবলম্বন করলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হবে তার উপর আলোকপাত করেন।
এরপর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সম্মানী প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোঃ কবির আহমেদ ভূঞা।

তিনি বলেন, “আগষ্টের এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল দেশ গড়তে তথা ভিশন ২০২১ অর্জনে আমি প্রকৌশলী সমাজকে আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া দেশকে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ, নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতা বন্ধে
সরকার ঘোষিত সকল পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি"।



ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

প্রকৌশল সংবাদ এর অারো খবর