সাতদিন পরই বন্ধ হচ্ছে সিটিসেল
সাতদিন পরই বন্ধ হচ্ছে সিটিসেল
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-১৭ ০৬:৩৬:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


দেশের সবেচেয়ে পুরোনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার থেকে। এই ৭ দিনের মধ্যে সিটিসেলের গ্রাহকরা অন্য অপারেটরে চলে যেতে পারবেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

সচিবালয়ে টেলিযোগাযোগ বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর তারানা হালিম জানান, বুধবার থেকে সিটিসেল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে গ্রাহকরা আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বিকল্প অপারেটরে যেতে সময় পাবেন।

তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিটিসেল বন্ধের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সে কারণে ১৬ আগস্টই অপারেটরটির সেবা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া বিষয়টি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীরও কোনো অনুমোদন নেই। তাই ৭ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এদিকে দেনা পরিশোধের জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে বিটিআরসির কাছে আবেদন করে রেখেছিল সিটিসেল। এর আগে বকেয়া না দেওয়ায় সিটিসেলের কার্যক্রম যে কোনো সময় বন্ধ করে দেবেন জানিয়ে এর গ্রাহকদের ১৬ অগাস্টের মধ্যে বিকল্প সেবা নিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।

সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির বকেয়ার পরিমাণ ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে টুজি লাইসেন্সের তরঙ্গ বরাদ্দ ও নবায়ন ফি বাবদ পাওনার পরিমাণ ২২৯ কোটি টাকা। এছাড়া রাজস্ব ভাগাভাগির ২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বার্ষিক তরঙ্গ ফি ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের ৮ কোটি ৯২ লাখ, বার্ষিক লাইসেন্স ফি ১০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও বিলম্ব ফি বাবদ ১৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

বিটিআরসির বাইরেও অপারেটরটির সবচেয়ে বড় দেনা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে। সেখানে দেনার পরিমান তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে। বার বার তাগাদা দিয়েও ওই টাকা আদায় করতে না পেরে সিটিসেলকে ১৬ অগাস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে তরঙ্গ বাতিল ও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিল বিটিআরসি।

বিটিআরসির হিসাবে চলতি বছরের জুন মাস শেষে দেশে ১৩ কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার মোবাইল ফোন গ্রাহকের মধ্যে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা মাত্র ৭ লাখ ২০ হাজার।

১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর হিসেবে টেলিযোগাযোগ সেবা দেয়ার লাইসেন্স পায় সিটিসেল। যাত্রার সময় এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মুঠোফোন অপারেটর। প্রথম থেকে সিটিসেল বাংলাদেশের একমাত্র সিডিএমএ (কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস) মোবাইল অপারেটর হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কাগজে-কলমে সিটিসেলের টাওয়ারের সংখ্যা ৮৫০-এর বেশি বলা হলেও বর্তমানে চালু আছে ২০০-এর কম বলে জানা গেছে।

সিটিসেলে বর্তমানে ৫৫ ভাগ শেয়ারের মালিক দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী প্যাসিফিক মোটরস ও ফার-ইস্ট টেলিকম। এর মধ্যে প্যাসিফিক মোটরসের শেয়ারের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ফার-ইস্ট টেলিকমের ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিংটেল। প্যাসিফিক মোটরস ও ফার-ইস্ট টেলিকমের কর্ণধার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা মোরশেদ খান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর