মারজানের খবরে তোলপাড় চবিতে
মারজানের খবরে তোলপাড় চবিতে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-১৬ ১৯:৫৪:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার সন্দেহভাজন মাস্টারমাইন্ড মারজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী- এমন খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে চবির ক্যাম্পাস জুড়ে।

সোমবার রাতে তার পরিবারের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তার পুরো পরিচয়। সেখানে বলা হয়, মারজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টির বিস্তারিত জানতে এরই মধ্যে উদ্যোগও নিয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মারজানের বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে চাওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উঠে আসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাম। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গত ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ আছে কি না এবং নিখোঁজ থাকলে তাদের তালিকা চেয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে চিঠি দেন স্থানীয় হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নিখোঁজ ও দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা চেয়ে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে চিঠি দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা। এই চিঠিতে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা জমা দিতে বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ‘নিখোঁজ’ ছয় শিক্ষার্থীর তালিকা গত ৪ আগস্ট স্থানীয় হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করে। পরে ওই ছয় শিক্ষার্থীর খোঁজও মেলে। কিন্তু ওই ছয়জনের তালিকায় নুরুল ইসলাম মারজানের নাম ছিল না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্যান্য বিভাগ নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা দিলেও আরবি বিভাগ কোনো তালিকা জমা দেয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বিভাগের পক্ষে নিখোঁজ শিক্ষার্থী আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়নি বলেও জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, ‘নিখোঁজ’ শিক্ষার্থীদের যে তালিকা পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল সেখানে মারজানের নাম ছিল না। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছিল। চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পরও নির্দিষ্ট সময়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের কোনো তালিকা দেয়নি আরবি বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সোমবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে মারজানের বিষয়টি জেনেছি। মঙ্গলবার আমার ঢাকা যাওয়ার শিডিউল ছিল, সেটি আমি বাতিল করেছি। মঙ্গলবার সকালেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েই এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেব।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরেকটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরবি বিভাগের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবে। পাশাপাশি মারজান নামের কোনো শিক্ষার্থী ওই বিভাগে আছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা ও প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরীও জানান, মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিক্ষা এর অারো খবর