আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেলরুট নির্মাণসহ ছয় প্রকল্পের অনুমোদন একনেকে
আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেলরুট নির্মাণসহ ছয় প্রকল্পের অনুমোদন একনেকে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-১৬ ১৯:৪৭:০১
প্রিন্টঅ-অ+


আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেলরুট নির্মাণসহ এক হাজার ৯৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৪২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং বাকিটা সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে মেটানো হবে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয় একনেক। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ‘আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ’, যার আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে ভারতের আগরতলার মধ্যে নতুন রেলরুট স্থাপন করা হবে। অনুমোদিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় অনুদানই থাকছে ৪২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং বাকি মাত্র ৫৭ কোটি ০৫ লাখ টাকা জিওবি থেকে মেটানো হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ভারত সরকারের অনুদানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চালু হতে যাচ্ছে নতুন এ রেলরুট। এরপর বিদ্যমান আগরতলা-কলকাতা রেলপথ ব্যবহার করেই বাংলাদেশ থেকে কলকাতা পর্যন্ত যাওয়া যাবে। ২০১৬ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

আখাউড়া-আগরতলা রেললিংকটির মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে ‍বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন পথ উন্মোচিত হবে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক এবং উপ-আঞ্চলিক কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে একটি নতুন করিডোর স্থাপিত হচ্ছে বলেও জানান আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

তিনি জানান, একই সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত নতুন রেলরুটটি নির্মাণের কাজ শুরু করবে। বাংলাদেশ অংশে ১০ দশমিক ১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ মেইন লাইন এবং ৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। আর ভারতের আগরতলা অংশে ৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় তিনটি মেজর এবং ২০টি মাইনর ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। ৫৬ দশমিক ৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি তিনটি স্টেশনে কম্পিউটারাইজড ইলেকট্রনিক সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপনেরও ব্যবস্থা থাকছে।

প্রকল্পের আওতায় একটি চার চাকার ডাবল কেবিন পিক-আপ সংগ্রহের পাশাপাশি ‍পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এনজিওকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

২০১০ সালে ভারত সরকারের অনুদানে আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। স্মারক অনুযায়ী ভারত সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কন্সট্রাকশন(ইপিসি) ভিত্তিতে এ রেল সংযোগ নির্মাণ করা হবে।

নতুন রেলরুটটি ভারতের আগরতলা স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে ৫ দশমিক ০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বাংলাদেশ অংশে এটি আখাউড়া-চট্টগ্রাম রেলপথের গঙ্গাসাগর স্টেশনে এসে মিলিত হবে। তারপর বিদ্যমান রেললাইনের পূর্বপাশ দিয়ে সমান্তরালভাবে আখাউড়া জংশন স্টেশনে গিয়ে মিলিত হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর