পিডিবির কোম্পানি গঠন ঠেকাতে আন্দোলনকারীরা অনড়
পিডিবির কোম্পানি গঠন ঠেকাতে আন্দোলনকারীরা অনড়
২০১৬-০৮-১৫ ২১:১৭:৩১
প্রিন্টঅ-অ+


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ভেঙে আলাদা কোম্পানি গঠনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। সমস্যার সমাধান করতে রোববার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় কোনো সমঝোতা হয়নি। তবে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ও প্রতিমন্ত্রী মনে করছেন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। আরেকটি অংশ দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে।

গতকাল সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। পিডিবির বিভিন্ন ইউনিয়ন ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। তারা সমন্বিতভাবে শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন করছেন।

সূত্র জানায়, আলোচনায় সরকার পক্ষ বলেছে, কোম্পানি হবেই। ইউনিয়ন নেতারা এর প্রতিবাদ করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ কিছু ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সবাই একমত হতে পারেননি।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। পিডিবিকে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই পিডিবি একক ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ কেনা-বেচায় বড় ভূমিকা রাখবে। উৎপাদনে মনোনিবেশ করবে। বিতরণ কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনেই সব হচ্ছে। তাদের (আন্দোলনকারীদের) কয়েকটি অপশন দেওয়া হয়েছে।

পিডিবিকে পেট্রোবাংলার মতো করপোরেশন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা হবে। তা না হলে হোল্ডিং কোম্পানি হতে পারে। আন্দোলনকারীরা এতে রাজি হচ্ছে না। আসলে তারা কী চাচ্ছে এ বিষয়ে তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই।

জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আলোচনা হতেই পারে। আলোচনা হবে। আন্দোলনও চলবে। কারণ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কোনোভাবেই কোম্পানি করতে দেওয়া হবে না। আর কোম্পানি হলেও এখন বিদ্যুতের যেসব কোম্পানি আছে সেগুলোসহ নতুন সব কোম্পানি পিডিবির অধীনে রাখতে হবে। এ নিয়ে সমঝোতা হলে নতুন কোম্পানি গঠনের বিষয়টি মেনে নেওয়া হবে। তবে নতুন কোম্পনিগুলোর কার্যক্রম একসঙ্গে চালু করতে হবে। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে তাদের পরবর্তী কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত) মাস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, তারাও দেশের মঙ্গল চান। পিডিবির ভালো চান। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

পিডিবির রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের ১৬টি জেলার বিতরণ কার্যক্রম পৃথক করে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাডিকো) নামে একটি নতুন কোম্পানি গঠিত হয় ২০০৩ সালে। এরপর বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা করেও পিডিবির কর্মীদের বাধার মুখে নতুন কোম্পানির কার্যক্রম চালু করতে পারেনি।

সর্বশেষ গত ১ আগস্ট সম্পত্তি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে পিডিবি ও নওপাডিকোর মধ্যে চুক্তি সই হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ২ আগস্ট আন্দোলনে নামে শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। তারা তিন দিনের গণছুটি কর্মসূচি পালন করে। তাদের কর্মসূচিতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে পিডিবি। সংস্থাটির দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মকর্তারা তাদের দপ্তরে যেতে পারছেন না। তবে উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

আন্দোলনের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার শ্রমিক নেতা ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর দুই মন্ত্রী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসেন।

শনিবার রাতেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নসরুল হামিদের দীর্ঘ বৈঠক হয়। রোববার উভয় পক্ষের যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। এর আগে উভয় পক্ষ আবারও বৈঠক করে। তবে একমত না হওয়ায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একাই সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় পাওয়ার সেলের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর