কমলাপুর আইসিডিতে ২০ বছর পড়ে আছে গ্যান্ট্রি ক্রেন
কমলাপুর আইসিডিতে ২০ বছর পড়ে আছে গ্যান্ট্রি ক্রেন
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২১ ১৭:৪৩:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


কমলাপুর রেলওয়ে আইসিডিতে ২০ বছর পড়ে আছে প্রায় ৮ কোটি টাকায় কেনা গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ নানা সরঞ্জাম। কেনার পর থেকে এ পর্যন্ত এক দিনের জন্যও ব্যবহার হয়নি ক্রেনটি। এই ক্রেন ব্যবহারের জন্য কোটি টাকা খরচ করে স্থাপন করা হয়েছিল চলাচল লাইন। শুরু থেকে ব্যবহার না হওয়ায় মরিচা ধরে এখন পুরোপুরিই অকেজো এই লাইন ও ক্রেনটি। এই ক্রেনের কারণে বিশাল জায়গা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। কনটেইনার রাখার কাজে ওই জায়গা ব্যবহার করতে পারছে না আইসিডি। এতে বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। একদিকে রাষ্ট্রের বহু কোটি টাকা নষ্ট, অন্যদিকে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়া- দুয়ে মিলে গ্যান্ট্রি ক্রেনটি এখন গলার কাঁটা। তবে এ ক্রেন ক্রয় কমিটিতে থাকা সংশ্লিষ্ট তখনকার রেলওয়ে কর্মকর্তারা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬-৯৭ সালের অর্থবছরে এ ক্রেন ও লাইন স্থাপনে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হয়। ৯৮ সালের শেষের দিকে চীন থেকে একটি গ্যান্ট্রি ক্রেন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ৮ কোটি টাকায় কেনা হয়। ক্রেনটি স্থাপনের পর পরীক্ষামূলকভাবে কনটেইনার ওঠানামাতে গিয়ে ত্রুটি ধরা পড়ে। এ অবস্থায় প্রায় দুই বছর ক্রেনটি আইসিডির ভেতর ফেলে রাখা হয়। কেন এমন হল তা বের করতে ২০০২ সালের মার্চ মাসে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলীদের নিয়ে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০০২ সালের ৩১ মে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, ক্রেনটি সম্পূর্ণ অনুপযোগী এবং এটি ক্রয় করা হয়েছে যাচাই-বাছাই না করেই। এটি কনটেইনার ওঠানো নামানোর কোনো কাজেই আসবে না।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-৩ হামিদুর রহমান বলেন, ক্রেনটি স্থাপনের পর পরীক্ষামূলকভাবে চালাতে গিয়েই ত্র“টি ধরা পড়ে। এরপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এ ক্রেন ও লাইন স্থাপন আইসিডির কোনো কাজেই আসবে না। দীর্ঘদিন ধরে এ ক্রেন ও লাইন ব্যবহার না হওয়ায় তা মরিচা ধরে পুরোপুরিই নষ্ট হওয়ার পথে।

রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. হাবিবুর রহমান জানান, কমলাপুর আইসিডির ভেতর এই ক্রেন ও লাইন স্থাপনকালে তিনি ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় সহযোগী-বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। ব্যবহার অনুপযোগী এ ক্রেন বিষয়ে গঠিত চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। তদন্তে দেখা গেছে ক্রেনটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। তিনি বলেন, ক্রেন কেনা ও লাইন স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন তখনকার পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম মিয়া।

কমলাপুর রেলওয়ে আইসিডির ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার মো. মসিউর রহমান বেগ জানান, আইসিডির প্রবেশ পথে এ ক্রেনটি বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে আছে। মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে চলাচল লাইনও। ক্রেনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় আইসিডির কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে পারেনি রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। ফলে আইসিডির নিজস্ব ক্রেন দিয়েই কনটেইনার ওঠানো-নামানো হচ্ছে। অকেজো এ ক্রেনটি দিনের পর দিন নষ্ট হলেও তা সরানো হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিডির অপর এক কর্মকর্তা জানান, এ অকেজো ক্রেন ও লাইন স্থাপনের জন্য আইসিডির ভেতরে অনেক জায়গা দখল হয়ে আছে। যেখানে কনটেইনার রাখা হলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারত।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মকবুল আহমেদ জানান, ক্রেনটি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ৮ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থাপন করা হয় চলাচল লাইনও। তিনি বলেন, এ ক্রেন ক্রয় তথা ওই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন কিনা তা বলতে পারব না। তবে এটি ক্রয়ের মধ্য দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করা হয়েছে। তবে এখন যে বিষয়টি জরুরি তা হল- ক্রেনটি সরিয়ে কিংবা টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা যায় কিনা সে ব্যবস্থা করা।

রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, এ ক্রেন তথা লাইন স্থাপন যখন করা হয়েছিল, তখন রেলওয়ে বিভাগ ছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ক্রয় সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত সংশ্লিষ্ট দফতরে রয়েছে। তবে এ নিয়ে বিতর্কের আগে জরুরি ভিত্তিতে এখন অকেজো ক্রেনটি বিক্রয়ের জন্য টেন্ডার করা যায় কিনা, অথবা অন্যত্র সরানো যায় কিনা এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।

এ ব্যাপারে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক জানান, ক্রেনটি ক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে তলব করা হবে। ক্রয় কমিটিতে তখন কে ছিলেন, কী ত্র“টি ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। ওই প্রকল্প পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
(শিপন হাবীব)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর