দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-১৩ ২১:২৫:১৭
প্রিন্টঅ-অ+


ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক জরিপ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবার অবনতির খবর এখন আলোচ্য বিষয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উন্নয়ন সূচক ২০১৬’ প্রতিবেদনে ইন্টারনেট ব্যবহারে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে প্রায় সবার নিচে অবস্থান বাংলাদেশের। যদিও বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছেন না দেশীয় প্রযুক্তিবিদরা। তারা বলছেন, এটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা।

ক্রমবর্ধমান এই অবনতির বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি মোস্তফা জব্বার বলেন, এই জরিপের ফলাফলকে প্রাথমিক বিচারে সঠিক ধরে নেয়া হলেও এটি অনেকাংশে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। আইটিইউ’র জরিপের যে প্রতিবেদন নিয়ে আমাদের দেশে মাতামাতি চলছে সেটি আসলে সার্বক্ষনিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা।

তিনি বলেন, অবকাঠামোগত কারণে আমাদের দেশে সার্বক্ষনিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম। আমাদের দেশে খণ্ডকালীন ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যার অনুপাত পৃথিবীর অন্য যে কোন দেশের তুলনায় বেশি হবে।

প্রতিবেদন তৈরি করতে ২০১৫ সালের তথ্য উপাত্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। র্যাংকিং তৈরিতে ১১টি সূচককে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি দেশে প্রতি ১০০ জনে কতজন মোবাইল ফোন, সংযুক্ত বা ফিক্সড টেলিফোন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ফিক্সড ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবহার করেন সেগুলোর ভিত্তিতে র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু আফগানিস্তানের আগে আছে বাংলাদেশ।

একটি দেশের সার্বিক শিক্ষার হার, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার হারকেও র্যাংকিং তৈরিতে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। ১১টি সূচক যোগ করে ২০১৫ সালে ১০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ২ দশমিক ২২। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, পাকিস্তান, নেপালের মতো সার্কভুক্ত দেশগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের থেকে ভালো অবস্থানে আছে।

বরাবরের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির অবস্থান ১১৫। এরপর ভুটান, ১১৯ নম্বরে। ভারত আছে ১৩১ নম্বরে, নেপাল ১৩৬ নম্বরে। এরপর ১৪২ থেকে ১৪৪ নম্বর স্থানে আছে যথাক্রমে মিয়ানমার, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।

দক্ষিণ এশিয়ায় সব শেষে আছে আফগানিস্তান (১৫৬)। ২০১০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৮। অর্থাৎ পাঁচ বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে মাত্র চার ধাপ। একই সময়ে ভারত ১২৫ থেকে ছয় ধাপ পিছিয়ে ১৩১ ও পাকিস্তান ১৩৮ থেকে পাঁচ ধাপ পিছিয়ে ১৪৩ নম্বরে এসেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে মোবাইল, পিএসটিএন, আইএসপি ও ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের সব মিলে সক্রিয় ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৫৮ হাজার, আইএসপি ও পিএসটিএনদের ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৩৫ লাখ ২০ হাজার এবং ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের ইন্টারনেট ব্যবহার করে ১ লাখ ১২ হাজার। বিটিআরসির এই প্রতিবেদনে গত জুনের চিত্র দৃশ্যমান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর