তথ্য গরমিলে ভাড়াটিয়াদের গ্রামের বাড়িতেও খোঁজ
তথ্য গরমিলে ভাড়াটিয়াদের গ্রামের বাড়িতেও খোঁজ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-১২ ১৮:৫৯:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর ৪৯ থানায় জমা পড়া প্রায় ২০ লাখ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরমে দেওয়া তথ্যের গরমিলকে প্রাধান্য দিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে পুলিশ। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরিজীবী ও ছাত্রদের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রকে যাচাই বাছাইয়ের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তথ্যের গরমিল ও সন্দেহভাজন ভাড়াটিয়াদের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায়ও খোঁজ-খবর নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়েছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।

রাজধানীর মহানগর এলাকার ৪৯টি থানার মধ্যে একটি রমনা থানা। ১৯২১ সালে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ এ থানা এলাকায় রয়েছে মন্ত্রিপাড়া, প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্স, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), শিল্পকলা একাডেমী, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের কার্যালয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ও রয়েছে এখানে।

রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, রমনা থানাধীন বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের প্রায় ৬০ হাজার তথ্য ফরম বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার পাঁচশটি জমা দিয়েছে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ারা।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ফরম দিয়েছি। আমাদের থানার ছয়টি আলাদা বিটের মাধ্যমে উপ-পরিদর্শক মর্যাদার কর্মকর্তারা এসব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই বাচাই করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে শহিদুল ইসলাম জানান, মেসের ক্ষেত্রে কিন্তু এককভাবে প্রত্যেকের জন্য একটি করে ফরম দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ভাড়াটিয়া বাসা বদল করায় হয়ত আমাদের কাছে সব ফরম জমা পড়েনি। তবে আমরা নতুন নতুন ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরম পূরণ করে জমা নিতে চেষ্টা করছি। কিছু কিছু বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করছেন বলেও জানালেন এই পরিদর্শক।

তবে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মশিউর রহমান জানান রমনা থানায় বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। প্রথম দিকে তথ্য ফরম নেওয়া বা জমা দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব না দিলেও এখন বাড়িওয়ালার নিজ গরজে ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরম নিচ্ছেন এবং জমা দিচ্ছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র, গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান মিন্টু রোডের কার্যালয়ে বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ তথ্য ফরম জমা পড়েছে। আমাদের হাতে আসা ফরমগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। সকলের তথ্য ফরম এই মুহূর্তে যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে তথ্যের গরমিল ও সন্দেহজনক ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায়ও খোঁজ-খবর নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

কী ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তথ্য ফরম যাচাই বাছাই করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা এখন বলা ঠিক হবে না। আমরা যে সব বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য যাচাই বাছাই করছি তা প্রকাশ করে দিলে যাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে তারা সতর্ক হয়ে যাবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা ৪৯ থানার মাধ্যমে ২০ লাখ তথ্য ফরম বিতরণ করা হয়েছে। তবে অনেকে ফরম ডাউনলোড করে এবং ফটো কপি করেও জমা দিয়েছেন। তবে মহানগরে প্রায় ৫০ লাখ পরিবার আছেন। তাদের প্রত্যেক পরিবার তথ্য ফরম জমা দিয়েছেন কিনা সেটাও যাচাই-বাছাই করছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মহানগর পুলিশের এই মুখপাত্র বলেন, ভাড়াটিয়ারা প্রতিমাসে কেউ না কেউ বাসা বদল করেন। বদল করেন এলাকাও। এটা মহানগরের ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চলমান একটি বিষয়। মহানগরের যে এলাকায়ই যাক সমস্যা নেই। কারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য একটি ইউনিক নাম্বার আছে। সেটা ধরে তিনি পুলিশের টাচে থাকবেন।

৫০ লাখ পরিবারের জন্য ২০ লাখ ফরম ছাড়া হয়েছে, এটা কতটা পর্যাপ্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদুর রহমান জানান, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাছাড়া আমরা ২০ লাখ ফরম ছেপে বিতরণ করেছি। সেখান থেকে ফটোকপি করে এবং ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য ফরমটি ডাউনলোড করেও জমা দিতে পারবেন এবং জমা দিচ্ছেনও।

আরেক পশ্নের জবাবে মাসুদুর রহমান বলেন, ভাড়াটিয়া ব্যাচেলর নাকি বিবাহিত সেটা বড় কথা নয়। ভাড়াটিয়াদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে রাখা মালিকদের কর্তব্য। ব্যাচেলরদের বাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে বা বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিতে ডিএমপির কোনো নির্দেশনা নেই। আমরা শুধু সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।

যারা এখনো তথ্য ফরম জমা দেননি, যাচাই-বাছাই কালে এমন তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর