হাসনাত ও তাহমিদের ৮ দিনের রিমান্ড
হাসনাত ও তাহমিদের ৮ দিনের রিমান্ড
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-০৫ ০৭:৩৭:৫২
প্রিন্টঅ-অ+


হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানের ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গুলশান হামলার ঘটনায় আদালতে হাজির করে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্যান্সনেশনাল ক্রাইম ইউনিট এর পরিদর্শক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে শুনানি শেষে ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হাসনাত করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সদস্য এবং তাহমিদ তার সহযোগী। বিভিন্ন সময় তাহমিদ হাসনাতকে সহযোগিতা করেছে।

হাসনাত ও তাহমিদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা খারিজ করে দিয়ে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার রাতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এবং কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গুলশান আড়ংয়ের সামনের রাস্তা থেকে হাসনাতকে এবং তাহমিদকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তাহমিদ হাসিব খান আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের ছেলে। তিনি কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং কানাডার স্থায়ী নাগরিক। ১ জুলাই গুলশান হামলার দিনই দুপুরে ঢাকায় আসেন তাহমিদ।

হাসনাত করিমের বাবা মোহাম্মদ রেজাউল করিম। হাসনাত বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক। ব্রিটেনের নাগরিক হলেও সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এসে বাবার আর্কিটেক্ট ফার্মে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার দিনে মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি হলি আর্টিজানে পরিবার নিয়ে খেতে গিয়েছিলেন।

১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ নাগরিক নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ৬ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানের পর ওই রেস্টুরেন্ট থেকে ৩২ জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জিম্মিদের মধ্যে হাসনাত করিম ও তাহমিদের রহস্যজনক আচরণের কারণে তাদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর হাসনাত ও তাহমিদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও তাদের অবস্থান জানা যায়নি।

হলি আর্টিজানে হামলার পর একজন কোরিয়ান নাগরিকের গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর হাসনাত করিম ও তাহমিদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষকের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হলি আর্টিজানের জিম্মি ঘটনায় তাকে জঙ্গিদের কয়েকজনের সঙ্গে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা গেছে।

এর আগে ওই দুজনের অবস্থান সম্পর্কে গুলশান হামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের কাছে হাসনাত ও তাহমিদের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘হাসনাত করিম ও তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের মধ্যেই আছেন। তাদের আমরা একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’

তখন তিনি দাবি করেন, ‘হয়তো যে কোনও কারণে তারা বাসায় অবস্থান না করে অন্য জায়গায় অবস্থান করছেন। তারা কোথায় আছেন, এটা মোটামুটি আমাদের ধারণায় রয়েছে। আমাদের ওয়াচের মধ্যেই আছে, সার্ভিলেন্সের ভেতরেই রয়েছে। আমরা চাইলে তাদের পাবো।’

হাসনাত করিমের পরিবার গত মাসের মাঝামাঝিতে জানায়, ‘জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২ জুলাই রাতে তার সঙ্গে তাদের দেখা হয়। এরপর আর দেখা হয়নি। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, হাসনাত তাদের হেফাজতে নেই। তখন একই ধরনের কথা বলা হয় ফাহমিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও।’

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর