বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্যবর্ধনে প্রকল্প
বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্যবর্ধনে প্রকল্প
২০১৬-০৮-০৫ ০১:০৯:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এবং নয়নাভিরাম করে সাজাতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে হাজারীবাগ হতে পাগলা অবধি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র।

প্রকল্পের মধ্যে থাকবে অবকাশ যাপনের জন্য নদীর তীরে বিলাসবহুল রিসোর্ট, হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে (চলাচলের রাস্তা), পার্ক, বসার স্থান, নদীঘাট, পর্যটকদের জন্য প্রমোদতরী, ভাসমান বিনোদন কেন্দ্র ও রেস্তোরাঁ। পর্যটকরা যাতে নদীর প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করতে পারেন তার জন্য নদীর দুই পাশের প্রশস্ত সড়কে উন্নত বাস সার্ভিসও থাকবে।

নদীতীরে বড় বড় শহর গড়ে উঠবার ইতিহাস বিশ্বে অসংখ্য। নদীপথে যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা এইক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বুড়িগঙ্গা নদীতীরে ঢাকা শহর পত্তনের ইতিহাস চার শত বছরেরও বেশি পুরনো। প্রতিবেশী পশ্চিমবাংলার রাজধানী কলকাতা গড়ে উঠেছে হুগলি নদীর তীরে। ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের সৌন্দর্যবর্ধনে নিকটস্থ টেমস নদীর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশাল নগরীর পত্তন সত্ত্বেও টেমস নদীর জল এক অর্থে প্রায় টলটলে, দূষণমুক্ত।

কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, নদীমাতৃক দেশ হয়েও নদীকে ধ্বংস করতে বাঙালির তুলনা চলে না। বুড়িগঙ্গার দুই তীরে এমন সব কলকারখানা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে যে, তাহার বর্জ্য ফেলবার নালা হিসাবে দশকের পর দশক ধরে ব্যবহূত হয়ে আসছে বুড়িগঙ্গা নদী। এই নদীর পানি এতটাই দূষিত যে বহু পূর্বেই জলজপ্রাণীর অস্তিত্ব প্রায় শূন্য হয়ে গেছে।

প্রতিবেশী দেশ কলকাতার নদীতীরও বুড়িগঙ্গার মতো বিভিন্ন কারণে দূষিত হয়ে পড়েছিল। এই দূষণ হতে মুক্তি পেতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতা পৌর সংস্থা ও বৃহত্তর কলকাতা উন্নয়ন পরিষদ মিলিতভাবে গঙ্গা পাড়ের সৌন্দর্যায়ণ প্রকল্প গ্রহণ করে। এর ফলে সেখানে নদীর পাড়কে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে সৌন্দর্যায়ণ ঘটানো হয়। বর্তমানে সৌন্দর্যায়িত নদীর পাড় কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র। সিঙ্গাপুরের কালং ও সিঙ্গাপুর নামে দুটি নদী রয়েছে। ওই দুটি নদীতে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায়।

বিশ্বব্যাংক ও ডিএসসিসির যৌথ অর্থায়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্যবর্ধনে যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তা সিঙ্গাপুরের কালং ও সিঙ্গাপুর নদী এবং বাংলাদেশের হাতিরঝিলের আদলেই বাস্তবায়ন করা হবে। তবে আশা করা যায়, এই প্রকল্পের সকল কাজ যথাযথভাবে নিয়ম মেনেই করা হবে। কারণ অর্ধযুগ পূর্বে বুড়িগঙ্গা নদীর দখলমুক্ত দেড় একর জায়গায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু কামরাঙ্গীরচরের টাওয়ার মোড় এলাকায় নদীর দুই তীরের মধ্যবর্তী ওই জায়গা নদী বাঁচাতে উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন ওই জায়গা খনন করে নদীর গতিপ্রবাহে সহায়তা না করে বরং বিপরীত কাজটিই করা হচ্ছিল। পরবর্তীসময়ে আদালতের মাধ্যমে ওই ক্ষুদ্র প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

আশা করা যায় পরিকল্পনা অনুযায়ী নূতন এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতিপ্রবাহও ফিরিয়ে আনা সম্ভবপর হবে। নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে নদী ও নদীর পাড়ের। মৃতপ্রায় বুড়িগঙ্গার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এই প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বৈকি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

পরিবেশ এর অারো খবর