কংক্রিটের সড়ক নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কংক্রিটের সড়ক নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-০৩ ২২:৫৬:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+


কংক্রিটের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, বিটুমিনের সড়ক অল্পদিনেই নষ্ট হয়ে যায়। আর তাতে জনভোগান্তির পাশাপাশি সংস্কারের ব্যয়ও বেড়ে যায়। অন্যদিকে কংক্রিটের সড়ক অনেক টেকসই।

রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। সভায় এক হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বিটুমিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করলে একটু বৃষ্টি হলেই তা নষ্ট হয়ে যায়; ভেঙে যায়। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। অন্যদিকে রাস্তা সংস্কারে ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই ব্যয় একটু বেশি হলেও এখন থেকে বিটুমিনের পরিবর্তে সব সড়ক ইট-সিমেন্ট-বালুর কংক্রিটে নির্মাণের কথা বলেন তিনি।

গত বছরও একনেকের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর সেই নির্দেশনার আলোকে এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিদ্যমান ১২০ কিলোমিটার সড়ক কংক্রিটে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে গণভবন এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কও কংক্রিটে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে আলোকে কাজও শুরু হয়েছে। সরকার বিটুমিনের পরিবর্তে কংক্রিটের সড়ক নির্মাণের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

‘বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করুন’
-----------------------------

মঙ্গলবারের সভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় দেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের জয়জয়কার ছিল। তখন শিক্ষার্থীরা শুধু বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা করতে চাইত। কিন্তু সেই ধারা পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন সবাই বিবিএ-এমবিএ পড়তে চায়। বিজ্ঞানে কেউ পড়তে চায় না। এই ধারা পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে বিজ্ঞানের প্রতি মনোনিবেশ করে এবং তাদের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় সে জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, আশঙ্কাজনক হারে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী কমছে। অন্যদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ১৯৯০ সালে মাধ্যমিকের প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ত প্রায় ৪৩ জন। ২০১৫ সালে তা ২৮ জনে নেমে এসেছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১৯৯০ সালে বিজ্ঞানে শিক্ষার্থী ছিল ২৮ শতাংশ। গত বছর তা কমে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১৯৯০ সালে যেখানে মোট শিক্ষার্থীর ১৭ শতাংশ ছিল বিজ্ঞানের, ২০১৫ সালে তা কমে ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ঠিক বিপরীত চিত্র বাণিজ্য বিভাগে। ইউজিসির তথ্য বলছে, ১৯৯০ সালে মাধ্যমিকে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে বাণিজ্য বিভাগে পড়ত ১৯ জন, গত বছর সেটি বেড়ে প্রায় ৪০ ছুঁইছুঁই করছে। অর্থাৎ বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি দ্বিগুণ হয়েছে। সভায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন শিরোনামের এই দুটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু সময় আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

১৪৮৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ৭ প্রকল্প অনুমোদন
-----------------------------------------

সভায় এক হাজার ৪৮৮ কোটি টাকার সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে এক হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৫৭ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো, মহিলা কারারক্ষীদের জন্য আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ। এর অংশ হিসেবে ৯৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের রাস্তাঘাট উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৯১ কোটি টাকা। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর ও দারিদ্র্যপ্রবণ জামালপুর ও শেরপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শিরোনামের আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৯ কোটি টাকা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর