বন্যা ভয়াল রূপ নিচ্ছে: রাজধানীতেও ঝুঁকি বাড়ছে
বন্যা ভয়াল রূপ নিচ্ছে: রাজধানীতেও ঝুঁকি বাড়ছে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-০২ ১৬:৫২:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+


চীন, ভারত ও নেপাল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশে ৩৩ শতাংশ এলাকা ডুবে গেছে। এসব এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উত্তর ও উত্তর মধ্যাঞ্চলের ১৯ জেলায় বন্যা ভয়াল রূপ নিচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা নদীসংলগ্ন রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশের নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে রাজধানীতেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। এর মধ্যে রোগাক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২২ জন, মারা গেছেন ৪৫ জন। বন্যার্তদের সহায়তায় ১৩ হাজার টন চাল, নগদ সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। এর বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাল, ডাল, আটা, সবজি, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে সাপসহ বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রব। সেইসঙ্গে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা পানির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনডিআরসিসি) তথ্যমতে, দেশের ১৯টি জেলার ৫৯টি উপজেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বন্যাক্রান্ত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত ও ১৫ হাজার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ১ হাজার ৩৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক এবং ৯৩টি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৮০ কিমি. পাকা রাস্তা এবং ২ হাজার ৫৩৮ কিমি. কাঁচা রাস্তা ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫০টি। ১৫৮ আশ্রয় কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। বন্যায় ১৭ জেলার ৯৪ হাজার ৫৩৬ হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে ডুবে গেছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (মনিটরিং) ড. মোহাম্মদ আবদু হু জানিয়েছেন।

বন্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের চিকিৎসায় ৩৪৬টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৪৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলের ১০টি জেলার ৫৬টি উপজেলার ২০৪টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ২২ জন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন।

বন্যা সতর্কীকরণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) তথ্য অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, যমুনা, ধলেশ্বরী, ধরলা, আত্রাই, লক্ষ্যা, কালিগঙ্গা ও কংসসহ ১৩টি নদ-নদীর পানি গত তিন দিন ধরে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

সোমবার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। যমুনার পানিও বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার ও বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপরে বইছে। টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার এলাসিনে ধলেশ্বরীর পানি ১৩৭ সেন্টিমিটার এবং গোয়ালন্দে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া নাটোরের গুর নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছে।

এফএফডব্লিউসির বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গঙ্গার পানি স্থিতিশীল থাকলেও পদ্মার পানি বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রিপন কর্মকার জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা পর যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পদ্মা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের নিুাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা প্রভৃতি নদ-নদীর পানি সমতলে বৃদ্দি পাবে এবং তা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান এ প্রকৌশলী।

ওদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। এগুলোর বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম করা যাবে না। বানভাসি মানুষের কষ্ট লাঘবে সবার ঘরে ঘরে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে। সোমবার তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এই ত্রাণ বিতরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নিজেই তদারকি করছেন এবং তার নির্দেশেই আমরা প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলায় যাব। যতদিন পর্যন্ত পানি না নামবে এবং বন্যাদুর্গত মানুষগুলো ঘরে না ফিরতে পারে ততদিন এই ত্রাণ তৎপরতা চলবে।

জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন প্রমুখ।

ত্রাণ বিতরণ শেষে মন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বন্যা মোকাবেলায় স্থানীয় ক্যাবল চ্যানেলের মাধ্যমে জনসাধারণের করণীয় শীর্ষক প্রচারভিযানের উদ্বোধন করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর