উত্তরায় রাজউকের অভিযানে দু’টি হোটেল বন্ধ
উত্তরায় রাজউকের অভিযানে দু’টি হোটেল বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৮-০২ ০৮:১৬:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে দু’টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সোমবার উত্তরার চার নম্বর সেক্টরের শায়েস্তা খান অ্যাভিনিউ এবং ১১ নম্বর সড়কে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার জাকির হোসেন।
এ সময় আবাসিক এলাকায় অননুমোদিতভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় নগর ভ্যালি এবং কমফোর্ট ইন নামের দু’টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় হোটেল দু’টির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে উচ্ছেদাভিযান একদিনের জন্যে ঠেকিয়েছে কমফোর্ট ইন।
শায়েস্তা খান অ্যাভিনিউর ২৭ নম্বর প্লটের ছয়তলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে নগর ভ্যালি নামের আবাসিক হোটেল পরিচালিত হয়ে আসছিল। ভবনের নিচতলায় পার্কিংয়ের জায়গায় হোটেলটির কার্যালয় ও অভ্যর্থনা কক্ষ। বেলা ১টায় অভিযান চালিয়ে হোটেলের কার্যালয় ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে হোটেলটির বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ।
রাজউক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৭ নম্বর প্লটের মালিক হলেন রাজউকেরই সাবেক নগরপরিকল্পনাবিদ কাজী গোলাম হাফিজ। ভবনের চারতলায় তিনি থাকেন। বাকি ফ্লোরে চলে হোটেলের কার্যক্রম। আইন অগ্রাহ্য করে আবাসিক এলাকায় তিনি হোটেল পরিচালনা করে আসছিলেন। হোটেলের কয়েকটি রুমে বোর্ডার ছিলেন। তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় কাজী গোলাম হাফিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার ভবনটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। জবাবে রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, ভবনটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন আছে ঠিকই, তবে এখানে হোটেল করার অনুমোদন নেই। এ কারণে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত এরপর অভিযান চালান চার নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের ৫০ নম্বর প্লটে। এখানে একটি আটতলা ভবনকে কমফোর্ট ইন নামের আবাসিক হোটেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের নিচতলায় গাড়ির রাখার জায়গায় হোটেলের লবি ও অভ্যর্থনা রুম নির্মাণ করা হয়েছিল। হোটেল পরিচালনা সংক্রান্ত রাজউকের কোনও অনুমোদন দেখাতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত হোটেলের লবি ও অভ্যর্থনা ভেঙে দিয়েছে। এ ছাড়া আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে একদিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, আবাসিক এলাকায় হোটেল পরিচালনার জন্য কোনও অনুমোদনপত্র হোটেল কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। এক কারণে হোটেলের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কমফোর্ট ইন হোটেল মালিক আবুল হাসনাত বাসু নিজ উদ্যোগে বাণিজ্যিক কার্যক্রম অপসারণ করবেন বলে মুচলেকা দিয়েছেন। এর ফলে তাকে একদিনের সময় দেওয়া হয়েছে। হোটেল মালিক একজন মন্ত্রীর আত্মীয় বলে জানিয়েছেন হোটেলের কর্মকর্তারা।

কর্মীরা আরও জানান, অভিযানের সময় বেশ কিছু রুমে বোর্ডার ছিল। তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর