গুলশান হামলা: একমাস ধরে জঙ্গিদের লাশ মর্গে
গুলশান হামলা: একমাস ধরে জঙ্গিদের লাশ মর্গে
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৮-০১ ১৭:০৬:১০
প্রিন্টঅ-অ+


গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার একমাস পার হলেও নিহত সন্দেহভাজন এক শেফসহ ছয় জঙ্গির মরদেহ এখনও রয়ে গেছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে। পরিবারের কাছে এই লাশ কবে হস্তান্তর করা হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারছে না কেউ। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত জঙ্গিদের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে, এসব শেষ হলেই পরিবার চাইলে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হবে। যদি কোনও পরিবার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তা আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পরিচালিত অপারেশন থান্ডার বোল্ট-এ পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। তারা হলেন, মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনির্ভাসিটির ছাত্র নিবরাস ইসলাম, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাসটিকার সাবেক ছাত্র মীর সামিহ মোবাশ্বের, বগুড়ার বিগিগ্রাম ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র খায়রুল ইসলাম পায়েল, বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজের ছাত্র শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। এছাড়া, হলি আর্টিজানের কর্মচারি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার রয়েছে নিহতদের মধ্যে।তাদের লাশ সিএমএইচের মর্গে রাখা আছে।

এর আগে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, জঙ্গিদের লাশ তার পরিবার দাবি করলে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে। পুলিশ সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েই লাশ হস্তান্তর করবে।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলাকারীরা নেশা জাতীয় কোনও ওষুধ সেবন করেছিলেন কিনা—তা নিশ্চিত হতে নিহতদের রক্ত ও চুলের নমুনা পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)।

কাউন্টার টেররিজম ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান,এফবিআই-এর ল্যাবে পাঠানো নমুনার প্রতিবেদন এখনও আসেনি।

এদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা.সোহেল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রথমবার ময়নাতদন্ত করার পর আমরা দ্বিতীয় দফায় কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি জঙ্গিরা শক্তিবর্ধক কিছু খেয়েছিল কিনা সেই পরীক্ষার জন্য। নমুনা হিসেবে ৩০টির মতো চুল আর ২০ মি.লি. রক্ত সংগ্রহ করে সিআইডির অধীনে থাকা মহাখালীর প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে ।এই প্রতিবেদন এখনও হাতে আসেনি।

হলি আর্টিজান বেকারির কুক সাইফুলের ভায়রা ভাই মো. কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাইফুলের ডিএনএ মেলানোর জন্য তার মা গত ১২ দিন আগে ঢাকায় গিয়ে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে এসেছেন। এরপর আমরা লাশ নেওয়ার জন্য আবেদন করলে ডিবি অফিস থেকে বলা হয়েছে, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট হাতে পেতে প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস সময় প্রয়োজন হয়। রিপোর্ট বের হলেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

মো. কবীর আরও বলেন,সাইফুলের লাশ নেওয়ার জন্য আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় মেয়র এবং হলি আর্টিজানের মালিকের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আগে আবেদন করেছিলাম। গুলশান থানায় এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।

লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান,এখনও কেউ যোগাযোগ করেননি। কেউ যোগাযোগ করলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

গত ২৫ জুলাই গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গিদের লাশ দাফনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, জঙ্গিদের তাদের পরিবারও ঘৃণা করে। যদি তারা লাশ নিতে না চায় তাহলে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হবে।

গত ১ জুলাই রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২ পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয় বলে সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে। এছাড়া এক জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির,৭ জন জাপানি ও ১জন ভারতের নাগরিক। বাকি ৩ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে ১ জনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। নিহত ৭ জাপানির মধ্যে ৬ জন মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর