জঙ্গি আস্তানায় পাওয়া পোশাক আইএস-এর আত্মঘাতী ইউনিটের!
জঙ্গি আস্তানায় পাওয়া পোশাক আইএস-এর আত্মঘাতী ইউনিটের!
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-৩১ ২২:৪০:২৫
প্রিন্টঅ-অ+


গুলশান আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে একাধিক জঙ্গি আস্তানা খুঁজে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেশকিছু আস্তানা থেকে জঙ্গি ধরতে না পারলেও পাওয়া গেছে তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ কালো পাঞ্জাবি, ঢোলা কালো পাজামা ও কালো টুপি। জঙ্গিবাদ নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা পোশাকের ধরন দেখে বলছেন, এগুলো আইএস-এর আত্মঘাতী ইউনিটের সদস্যের পোশাক। যাদের আইএস ইসতিহাদি সেনা বলে থাকে। তারা বলছেন, একের পর এক এ ধরনের আস্তানায় পতাকা, আইএস-এর পোশাক, দাবিকের একের পর এক সংখ্যায় বাংলাদেশ নিয়ে লেখার পর এখন আর আইএর-এর উপস্থিতি নিয়ে লুকোচুরির কোনও সুযোগ থাকছে না।
এর আগে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার এক জঙ্গি আস্তানা থেকে একটি গ্রেনেড উদ্ধারের পাশাপাশি আইএস-এর নিজস্ব পোশাকের মতো তিন সেট কালো পোশাক উদ্ধার হয়েছিল। এদিকে, কল্যাণপুরে নিহতরা সবাই অভিযানের আগে কালো পোশাক ও স্কার্ফ গলায় প্রস্তুত হয়েছিল। সেখান থেকেও পুলিশ অব্যবহৃত আরও কিছু কালো পাঞ্জাবি ও আইএস এর পতাকা উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে এই পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ওই পোশাক পরিহিত অবস্থায় তাদের ছবিও প্রকাশিত হয়।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডেইলি মেইলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আইএস-এর পোশাক ও তার ধরন নিয়ে জানা যায়। যেখানে দাবি করা হয়েছে, আইএস-এর সঙ্গে জড়িতরা তাদের কাজ ও র‌্যাংক-এর ক্ষেত্রে পোশাকের ধরন নির্ধারণ করে রেখেছে। ট্রেনিং ক্যাম্পের প্রশিক্ষকরা সাদা পাঞ্জাবি ধূসর পাজামা ও ধুসর বেল্ট পরে থাকে। ‘আফগানি রব’নামে পরিচিতরা সেনাদের মতো পোশাক পরে, যারা ইরাক ও সিরিয়ায় সম্মুখ সমরে যায়। যারা আইএস-এর ভয়াবহ অপরারেশনগুলো বাস্তবায়নে যায়, তারা হালকা ঘিয়া-পিত রঙের পোশাক ও একই রংয়ের স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে। কালো পোশাক ও ট্রাউজার পরিহিতরা আত্মঘাতী ও আইএস-এর কমান্ডার হিসেবে কাজ করে। সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে যারা আছে, তারা কালো গেঞ্জি আর ট্রাউজার পরা, মুখ কালো স্কার্ফে বাঁধা। স্কার্ফটি আইএস-এর পতাকার মতো দেখতে।

সাংবাদিক তাসনিম খলিল বলেন, গত জুন মাসের শেষের দিকে, আইএস আমাকের মাধ্যমে দাবি করেছিল, যে সাতটি দেশে তাদের গোপন ইউনিট আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। ওই সময় আমরা এই ইউনিটগুলোর বিষয়ে তেমন কিছুই সুনির্দিষ্টভাবে জানতাম না। গুলশান ও কল্যাণপুরের ঘটনার পর কালো পোশাক দেখে এখন একটা সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, তারা আত্মঘাতী ইউনিটের সদস্য, যাদের আইএস ইসতিহাদি সেনা বলে থাকে। আইএস-এর বিভিন্ন ধরনের পোশাকের বিষয়টা প্রথম সিরিয়ার মানবাধিকার সংগঠন রাকা আইবিএসএস-এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে প্রকাশ পায়।
জঙ্গিবাদ নিয়ে গবেষণা করছেন নির্ঝর মজুমদার। তিনি বলেন, আইএস-এর প্রতিটা প্রোপাগান্ডা ভিডিওতে তাদের জঙ্গিরা নিজেরা কালো পোশাক পরে এবং বন্দিদের হলুদ পোশাক পরায়। অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মতো তাদেরও নির্দিষ্ট পদমর্যাদার জন্য নির্দিষ্ট পোশাক থাকে। তবে, কালো পোশাকটি বিশ্বের প্রায় সব দেশের সব জঙ্গি সংগঠন এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাছে জনপ্রিয়। নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলতেই তারা এই পোশাক গুলো পরে। আইএস-এর যোদ্ধা দুই ধরনের। এক. ইশতিহাদি বা সুইসাইডাল যোদ্ধা, এবং ইনঘেম্যাসি বা কমান্ডো যোদ্ধা। সব থেকে নৃশংস কাজগুলো যারা করে, তারাই এই পোশাক বেছে নেয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, গুলশান কল্যাণপুরের ঘটনার পর এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে এক রকম বলছি না। কিন্তু এরা সেই আদর্শ লালন করে। আইএস যা-যা করতে চায় তা তারা করতে চায়। ফলে তারা এই কালো পোশাকের ধরনও নিজেদের করে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, কল্যাণপুরের অভিযানের দিন পুলিশ প্রধান একেএম শহীদুল হক বলেন, ‘ভোর ৫ টা ৫১ মিনিটে পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় জঙ্গিরা ফ্ল্যাটের দরজা খুলে গুলি করতে করতে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের পরনে কালো রঙের জঙ্গি পোশাক ছিল, মাথায় ছিল পাগড়ি; সঙ্গে ছিল ব্যাকপ্যাক।’একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ভোরে সোয়াটের এক ঘণ্টার অভিযান ‘অপারেশন স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্স’শেষ হলে ওই বাসায় ৯ জনের লাশ পাওয়া যায়, যাদের সবার পরনে কালো পাঞ্জাবি ছিল।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর