আইএস শিশুদের গড়ে তুলছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জঙ্গি হিসেবে!
আইএস শিশুদের গড়ে তুলছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জঙ্গি হিসেবে!
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-৩১ ০৯:৩৮:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


‘আগামী প্রজন্মের’ জঙ্গি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া হিসেবে বিদেশি সদস্যদের সন্তানদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ইউরোপের একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৫০ জন ব্রিটিশ শিশু-কিশোর ওই প্রশিক্ষণ শিবিরে যুক্ত রয়েছে।
আইএস-এর এক প্রপাগান্ডা ভিডিওতে দেখানো হয়, তারা শিশুদের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ও আগামী দিনের জঙ্গি হিসেবে গড়ে তুলছে। ওই ভিডিওতে চার বছর বয়সী এক ব্রিটিশ শিশুকে মৃত্যুদণ্ড দিতে দেখা যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, আইএস অধ্যুষিত এলাকায় শিশুদের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে। কোনও কোনও শিশুকে সেখানে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কেউ বা সেখানে আটকা পড়েছে। আবার আইএস-এর বিদেশি সদস্যদের সন্তানরাও ওই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে সন্ত্রাসবাদ-এর ওপর বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউরোপোল জানিয়েছে, আইএস-এর শাসনে বেড়ে ওঠা শিশুদের নিয়ে তারা বিশেষভাবে চিন্তিত।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আইএস তাদের প্রপাগান্ডায় প্রায়ই দেখায়, তারা আগামী প্রজন্মের বিদেশি সন্ত্রাসী গড়ে তুলছে। যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি ভবিষ্যত নিরাপত্তা হুমকি।’
আইএস-এর কথিত রাজধানীতে ধারণ করা ‘খেলাফতের শিশু’ নামে এক ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচ বছরের শিশুরাও আইএস-এর সামরিক পোশাক পরে আছে। আর তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অপর এক প্রপাগান্ডা ভিডিওতে দেখা যায়, শিশু-কিশোরদের মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘আইএসের কাছ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিরা ইইউ-র নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ফেরত আসা ব্যক্তিরা আইএসকে সমর্থন, আর্থিক সহায়তা, কর্মী সংগ্রহ এবং জঙ্গিকরণে তৎপর হতে পারেন। তারা আগামীদিনের সহিংস জঙ্গি গঠনের রোল মডেল হিসেবেও কাজ করতে পারেন।’

আইএস-এর কথিত খিলাফতে রয়েছে অর্ধশতাধিক ব্রিটিশ শিশু। যাদের জঙ্গি দীক্ষায় প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে ‘চিলড্রেন অব ইসলামিক স্টেট’ নামে লন্ডনভিত্তিক সন্ত্রাস বিরোধী থিংক-ট্যাংক কাইলিয়াম ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএস ঘাঁটিতে অন্তত ৩১ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক নারীদের ব্যবহার করে আইএস পরবর্তী প্রজন্মের একটা বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলার অভিনব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলেও ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়।

একজন জ্যেষ্ঠ গবেষক নিকিতা মালিক বলেন, ‘আইএস খুব ধৈর্য, চতুরতা এবং কৌশলের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের জিহাদি তৈরি করছে। তাদের ৩১ হাজার নারী এখন গর্ভবতী। এরা যে সন্তান প্রসব করবেন তাদের দিয়েই তৈরি করা হবে আগামীদিনের বাহিনী।’

নিকিতা মালিকের মতে, একজন বয়স্ক মানুষকে খেলাফতের আদর্শে দীক্ষিত করা আইএসের জন্য কঠিন কাজ। অনেক ক্ষেত্রেই ঠিক মতো কাজ হয় না। তাছাড়া বয়স্কদের ভেতরে সংশয় কাজ করে। তারা ন্যায় অন্যায়ের তফাৎ জানেন। কিন্তু সদ্যজাত শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা থাকবে না। তাদেরকে ছোটবেলা থেকে যেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা শেখানো হবে, তারা ঠিক তাই শিখবে। তারা হবে আইএসের ‘আদর্শ যোদ্ধা’।

জাতিসংঘের সমর্থিত ওই তদন্তের ফলাফলে বলা হয়, আইএস বয়স্কদের চেয়ে শিশুদের বেশি কার্যকরী যোদ্ধা হিসেবে তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করে। যেহেতু সদ্যজাত শিশুদের মন শুন্য ব্ল্যাকবোর্ডের মতো, কাজেই তারা সেই বোর্ডে যা লিখবে তা নিয়েই গড়ে উঠবে শিশুটি। জন্ম থেকেই এই ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে রাখলে এই শিশুরাই একসময় হবে আইএসের ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসী বাহিনী।
ছেলে শিশুদের কোরআনের আয়াত মুখস্থ করতে হয় এবং জিহাদের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেখানে গোলাগুলি, কারাতে এবং অস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মেয়ে শিশুদের বলা হয় ‘খেলাফতের মুক্তা’। তাদেরকে অবশ্যই ইসলামি আইন অনুসারে অন্দর মহলে থাকতে হবে। আবার তারাই কয়েক বছর পর জন্ম দেবে আগামীদিনের আইএস সদস্যদের।

শিশুদেরকে ব্যতিক্রম উপায়ে বড় করার জন্য আইএস অনেক পদ্ধতি ব্যবহার করে। তার মধ্যে একটি পদ্ধতি হচ্ছে, শত্রুর ছিন্ন মস্তক দিয়ে তাদের ফুটবল খেলার ব্যবস্থা করা।

এমনই নতুন প্রজন্মের এক সন্ত্রাসী খাদিজা দারের ছেলে ইসা দার। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আইএস-এর এক প্রপাগান্ডা ভিডিওতে দেখানো হয়, সে তিন বন্দিকে বহনকারী একটি গাড়িকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে। ভিডিওতে আরও দেখানো হয়, ইসা বলছে, ‘আমরা এভাবেই কাফেরদের হত্যা করব।’ তার সঙ্গে অপর এক কিশোরকে দেখা যায়, যে ব্রিটিশদের হুমকি দিচ্ছে।

ইউরোপোল জানিয়েছে, আইএস এলাকা থেকে নেদারল্যান্ডসে আসা ব্যক্তিদের ৪০ শতাংশই নারী। তাদের অনেকের স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, তারা পুনর্বিবাহে বাধ্য হয়েছেন বলে ওই নারীরা উল্লেখ করেছেন।

ইউরোপোলের তথ্যমতে, পাঁচ সহস্রাধিক ইউরোপীয় আইএস-এর সঙ্গে যুক্ত হতে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়েছেন। তবে এর পরিমাণ আরও অনেক বাড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর