মাশরাফির যাত্রা শুরু
মাশরাফির যাত্রা শুরু
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-২০ ০৭:৫৪:২০
প্রিন্টঅ-অ+


চোখেমুখে এখনো ক্লান্তির ছাপ। হাসিতে এখনো একটু শারীরিক দুর্বলতার ছোঁয়া।

বলটা স্পর্শ করতেই অবশ্য ক্লান্তি-দুর্বলতা দূরে পালিয়ে গেলো যেনো। অনুশীলনে প্রথম দিন পৌঁছেই বুঝিয়ে দিলেন ক্লান্তির মতো ব্যাপারগুলোকে মাঠের বাইরেই রেখে আসেন। স্বভাবমতো হই-চই আর খুনসুটি করে দলের মধ্যে ছড়িয়ে দিলেন এক পসলা সতেজ হাওয়া। বুঝিয়ে দিলেন—নতুন কিছুই করতে এসেছেন তিনি।

হ্যাঁ, মাশরাফি বিন মুর্তজা। সফল অধিনায়কের দারুণ প্রতীক মাশরাফি গতকাল যোগ দিলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নবাগত দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অনুশীলনে। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষ করে এটুকু অন্তত বলতে পারলেন, ‘আমাদের দল কাগজে-কলমে অন্তত খুব ভালো। যদিও খেলাটা মাঠেই হবে, হিসাবে নয়। মাঠে আমাদের সবার ভালো পারফর্ম করতে হবে। আমি আশাবাদী, দলের সবাই সেটা করতে পারবে। বাকিটা সময়ের জন্য তোলা থাক।

জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবে মাশরাফি কী কী করেছেন, সে হিসাব সবার মুখস্থ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে সফল অধিনায়ক মাশরাফির উত্থান এই বিপিএল থেকেই। ২০১২ ও ২০১৩ সালে তারই নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি এবার নেতৃত্ব দিতে চলেছেন ভিক্টোরিয়ানদের। তিনি জানেন, রেকর্ডের কারণেই তার ওপর একটা প্রত্যাশার চাপ থাকবে।

চাপ নিতে মাশরাফির কখনোই আপত্তি নেই। এখানেই আপত্তি করছেন না, সাফল্যের কারণে বা রেকর্ডের কারণে একটা প্রত্যাশা তো থাকবেই। এই ধরনের চাপ তো এমনি তৈরি হয় না। আমরা আশা করবো, ফ্রাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ আমাদের যে অসাধারণভাবে সহায়তা করছেন, এটা ধরে রাখবেন। শিরোপার কথা তো আগে থেকে বলা যায় না। তবে আমরা বলতে পারি, আমরা মাঠে সেরা পারফরম করার চেষ্টা করবো।

মাশরাফির জন্য সময়টা অবশ্য একটু প্রতিকূলই বটে।

পুরোটা ক্যারিয়ার জুড়ে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করা মাশরাফিকে সম্প্রতি অন্য এক অসুস্থতার সাথে লড়তে হচ্ছে—ডেঙ্গু জ্বর। এই জ্বরে প্রবল দুর্বলতা নিয়েও খেলেছেন মাশরাফি। এতোটাই দুর্বল ছিলেন যে, বল করার সময় পর্যন্ত তার মাথা চক্কর দিয়েছে বলে বলছিলেন, বোলিং করছিলাম, কিন্তু আমার মাথা ঘুরছিল। রান আপে ছুটছি, মনে হচ্ছে পুরো দুনিয়া চক্কর খাচ্ছে। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল। বল ডেলিভারির সময় কখনো কখনো মনে হয়েছে যে মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। ফিল্ডিংয়ে হেঁটে যাচ্ছি, মনে হচ্ছে উল্টো হাঁটছি। কিন্তু মাঠে নামার পর তো আসলে এ সবকে প্রশ্রয় দেওয়ার উপায় নেই।

তারপরও খেলেছেন। দেশের জন্যই খেলেছেন। খেলতে খেলতে মাঠে জীবন চলে গেলেও পিছন দিকে ফিরে তাকাতেন না। তারপরও শুধু ছোট ছোট দুটো ছেলেমেয়ের কথা ভেবে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, খেললে মরে যাবেন কিনা, ‘জীবনে এত ম্যাচ মিস করেছি বাংলাদেশের যে এখন আর একটি ম্যাচও মিস করতে ইচ্ছে করে না। সিরিজের আগে ডাক্তারের কাছে একটা ব্যাপারই জানতে চেয়েছি যে আমি মারা যাব কিনা! সত্যি বলছি বিসিবির ডাক্তার দেবাশিষ দা, আমিন ভাই, অ্যাপোলোর ডাক্তার রায়হান, সবার কাছে একটা কথাই জানতে চেয়েছি যে খেলতে নামলে মরে যাব কিনা। আমার পাল্স অনেক কম ছিল। স্পোর্টস পারসনদের অনেকের এমনিতেই পালস কম থাকে, ৬০-৭০ এর মধ্যে। আমার ৪৫-এ নেমে গিয়েছিল। এখানেই ডাক্তারদের ভয় ছিল, তারা বলেছিলেন একজন কার্ডিয়াক ডাক্তার দেখাতে। আমি সময় পাইনি। এজন্যই প্রশ্ন করেছিলাম যে মারা যাব না তো? মারা না গেলে আমি খেলব। খেলতে গিয়ে মারা গেলেও সমস্যা ছিল না কিন্তু আমার ছেলে-মেয়ে দুটি ছোট এখনও (হাসি)।

ক্রিকেটের জন্য জীবন দিতে পারা এই মানুষটা এখন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দায়িত্বে। কুমিল্লার সমর্থকরা ভরসা রাখতেই পারেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর