বাংলাদেশের রিজার্ভ উদ্ধারে ফিলিপাইনকে এগিয়ে আসার আহ্বান নিউইয়র্ক ফেডের
বাংলাদেশের রিজার্ভ উদ্ধারে ফিলিপাইনকে এগিয়ে আসার আহ্বান নিউইয়র্ক ফেডের
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-২৯ ২০:৪৭:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সাইবার ডাকাতির মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে ফিলিপাইনের কেন্দ্রিয় ব্যাংককে এগিয়ে আসতে বলেছে মার্কিন কেন্দ্রিয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। এক বিশেষ প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংককে সাহায্য করতে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠি রয়টার্সের হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থ উদ্ধার প্রচেষ্টায় তাদের সমর্থন রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে। পরে বেশ কিছু পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে বেশিরভাগ অর্থচুরি ঠেকানো গেলেও ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তরে সক্ষম হন হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তা স্থানান্তরিত হয় ক্যাসিনোতে যার খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ ফিলিপাইনের সিনেটের কাছে ফিরিয়ে দেন কিং অন নামের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২৩শে জুন ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জেনারেল কাউন্সেল এলমোর ও. ক্যাপুলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন নিউইয়র্ক ফেডের জেনারেল কাউন্সেল থমাস বাক্সটার। চিঠিতে এলমোরকে ‘চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার ও ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টার সমর্থনে যথাযথ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ’ করার নির্দেশ দিয়েছেন থমাস বাক্সটার। চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, চারটি ট্রান্সফারের মাধ্যমে ম্যানিলা-ভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনে (আরসিবিসি) রক্ষিত একাধিক অ্যাকাউন্টে চলে যায় ওই অর্থ। যে পেমেন্ট ইন্সট্রাকশনের মাধ্যমে এ ট্রান্সফার করা হয়, তা বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসঙ্গত নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছিল। তবে হ্যাকাররা ওই ইন্সট্রাকশন চুরি করেছিল। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করেই সম্পন্ন করা হয়েছিল বিশ্ব ইতিহাসের আলোচিত এই সাইবার ডাকাতি।
রয়টার্স বলছে, ফিলিপাইনের কেন্দ্রিয় ব্যাংককে দেওয়া নিউইয়র্ক ফেডের ওই চিঠির কারণে রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টা আরো শক্তিশালী হলো।

খবরে বলা হয়, এ চুরির ঘটনায় মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ার আইয়ের প্রস্তুতকৃত একটি প্রতিবেদন নিউ ইয়র্ক ফেডের সঙ্গে ভাগাভাগিতেও রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিবেদন ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি জড়িত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র তাদেরকে এ তথ্য দিয়েছে। মার্কিন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরেই ওই প্রতিবেদনটি চাইছিলেন।

ফিলিপাইনকে পাঠানো চিঠি ও ফায়ারআই প্রতিবেদন চাওয়া সম্পর্কে রয়টার্সের কাছে তৎক্ষণাৎ কোন মন্তব্য করেনি নিউ ইয়র্ক ফেড। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি রয়টার্সের পক্ষে। আর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রয়টার্সকে জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এমন ঘটনায় তারা মন্তব্য করবে না। এক বিবৃতিতে আরসিবিসি বলেছে, ‘যে পক্ষগুলো চূড়ান্তভাবে ওই অর্থ পেয়েছে তাদের কাছ থেকে তা পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে’।

উল্লেখ্য, রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারের নিরাপত্তা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নেয় হ্যাকাররা। রিজার্ভের অর্থ চুরি করতে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনব্যবস্থা ব্যবহার করে ৯৫ কোটি ডলার ছাড় করার জন্য ৩৫টি আলাদা পেমেন্ট অর্ডার পাঠায়। তারমধ্যে হ্যাকারদের ৫টি পেমেন্ট অর্ডারের ফাঁদে পা দিয়ে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের স্থানান্তর কার্যকরও করে নিউইয়র্ক ফেড। তবে এই ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতো যদি না চুরি হওয়া অর্থের সঙ্গে জুপিটার শব্দটি যুক্ত না থাকত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুপিটার একটি অয়েল ট্যাঙ্কার ও শিপিং প্রতিষ্ঠানের নাম। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে তালিকাভুক্ত। আর তাই নিষেধাজ্ঞা তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম থাকার কারণেই নিউ ইয়র্ক ফেডে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপরই তারা ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারগুলো আরো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করে এবং পেমেন্ট বন্ধ করে দেয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর