রাজউকের তালিকায় ভুল: ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
রাজউকের তালিকায় ভুল: ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৬-০৭-২৯ ১৭:৩২:১৮
প্রিন্টঅ-অ+


রাজউকের তৈরি করা অভিজাত আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বাণিজ্যিক প্লটে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে রয়েছে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরের নিকটবর্তী গুলশান এভিনিউর পাঁচতারকা চেইন হোটেল ওয়েস্টিনের নাম। রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট কেএফসি বা পিৎজাহাটের নাম। অথচ এসব রেস্টুরেন্ট-হোটেল বাণিজ্যিক প্লটেই গড়ে উঠেছে।

১৭ জুলাই রাজউকের একটি অসম্পূর্ণ তালিকায় রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৫৫২টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। বর্তমানে চলছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ। এরই মধ্যে আরও ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত হয়েছে এ তালিকায়। এতে রয়েছে বাণিজ্যিক প্লটে গড়ে ওঠা ৩১টি প্রতিষ্ঠানের নাম। অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন কয়েকটি হোটেল-দোকান, যেগুলো এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে রাজউকের বোর্ড সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আসমাউল হোসেন বলেন, একটি তালিকা করা হয়েছে। কোনো কারণে সেটায় ভুল থাকলে সংশোধন করা হবে। কোনোটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হলে সেটাও করা হবে। সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য পেলে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। অভিযান চালানোর সময় যদি কেউ তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেন, তাহলে উচ্ছেদ করা হবে না।

গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর সংলগ্ন বাণিজ্যিক প্লটের শপিংমল পিংকসিটির আটতলায় অবস্থিত বাটন রোজ রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক কামাল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুলশান গোলচত্বর অনেক আগে থেকেই বাণিজ্যিক। পিংকসিটির প্লটও বাণিজ্যিক। ভবনের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে। তারপরও কেন এ রেস্টুরেন্ট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। অতীতেও কোনো সময় রাজউক পিংকসিটি শপিংমলকে এ ধরনের নোটিশ দেয়নি বলে জানান তিনি।

গুলশানের ১৪২ নম্বর সড়ক সংলগ্ন গুলশান এভিনিউতে গড়ে ওঠা পিৎজাহাট আর কেএফসির প্লটও বাণিজ্যিক। কিন্তু রাজউক এ প্রতিষ্ঠান দুটিকেও তালিকাভুক্ত করেছে। এ প্রসঙ্গে কেএফসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী আক্কু চৌধুরী জানান, তারা বিভিন্ন স্থানে কেএফসির শাখা খোলার আগে ভবন মালিকের কাছ থেকে কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হয়েছেন সেটা বাণিজ্যিক প্লট কি-না। তাদের প্রতিটি শাখাই বাণিজ্যিক ভবনে। তাহলে কেন কেএফসির নাম আসবে আর কেনই বা পিৎজাহাটের নাম আসবে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি জানান, গুলশান এভিনিউর দুপাশের প্লটগুলো ২০০৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে রাজউক। অথচ রাজউকের তালিকায় এই গুলশান এভিনিউরও অন্তত গোটা বিশেক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। পাশের নামি রেস্টুরেন্ট ফিশ এন কোংয়ের নামও তালিকায় ঢুকেছে।

আবার বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এ তালিকাটিতে। কয়েক বছর আগেই গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড থেকে সরে চলে গেছে নামি রেস্টুরেন্ট ফখরুদ্দিন কারি। বন্ধ হয়ে গেছে গুলশান-১ নম্বর যাত্রীছাউনির পাশে থাকা চপ-পেয়াজুর দোকান বারলিন কেবারি। কিন্তু সেগুলোর নাম তালিকায় রয়েছে। এর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

রাজউক যা বলছে :গুলশান এলাকার অথরাইজড অফিসার ও তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালনকারী মো. আদিলুজ্জামান বলেন, তালিকায় কিছু ভুলও হতে পারে। তবে পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ওটা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অন্য কারণে। নকশা অনুযায়ী সেখানে নিচতলায় কারপার্কিং করার কথা। অতীতে রাজউকের অভিযানের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে মুচলেকা দিলেও নকশা অনুযায়ী কারপার্কিং করেনি।

কেএফসি বা পিৎজাহাটকে তালিকাভুক্ত করার ব্যাপারে তিনি বলেন, গুলশান এভিনিউর এক সময় সব প্লটই আবাসিক ছিল। পরে রাজউক সিদ্ধান্ত নেয় গুলশান এভিনিউর দুই পাশের প্লট বাণিজ্যকভাবে ব্যবহার করা যাবে। আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে হলে রাজউককে একটি রূপান্তর (কনভারশন) ফি দিতে হয়। আবার ভবনে নেওয়া সেবা সংযোগগুলোকেও কনভার্ট করতে হয়। অনেকে এভাবে কনভার্ট না করলেও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন। সে কারণে এগুলো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বাণিজ্যিক প্লট হয়েও যেগুলো তালিকায় রয়েছে :রাজউকের তৈরি করা তালিকা ধরে গুলশান, বনানী ও বারিধারায় খোঁজ নিয়ে অন্তত ৩১টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো বাণিজ্যিক প্লটে গড়ে উঠেছে। এগুলোর বেশির ভাগই আবার গুলশান এলাকায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়াম সুইটস, মলি্লক স্ন্যাক্স, আবাসিক হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট দি ক্রিস্টাল ক্রাউন, ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট, ওয়েস্টিন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, কুকারস ২৪-২৫, আমেরিকান বার্গার, কুফা কফি লাউঞ্জ, মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজা, গ্গ্নোরিয়া জিন্স কফি, পিজা ইন, ফ্যাশন ক্যাফে, এভাকাস ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, চিউয়ে জুনিয়র ফিস এন কোং, কেএফসি রেস্টুরেন্ট, গ্গ্নোরিয়া জিন্স কফি ভিলেজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, পূর্ণিমা ক্যাফে, মি. বাকের, কোল্ড স্টোন কফি, নান্দুস রেস্টুরেন্ট, ফিয়েস্তা, পপুলার হ্যান্ডি রেস্টুরেন্ট, বাটন রোজ, মুভ এন পিক, সসলি, কফি রিপাবলিক, সিগনেচার, রক রেস্টুরেন্ট, বুমারস রেস্টুরেন্ট ও স্কাইরুফ হোটেল।

এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, রাজউকের নতুন এলাকা পূর্বাচল, ঝিলমিল ও উত্তরায় পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক এলাকা থাকছে। প্রয়োজনীয় স্কুল, কলেজ, বাজার থাকছে। ওই এলাকার মানুষকে এর বাইরে যেতে হবে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ইশরাত জাহান বলেন, গুলশান-ধানমণ্ডি নিয়ে এখন যেসব কথা হচ্ছে, রাজউকের তা তো আরও আগেই করার কথা ছিল। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে ওইসব এলাকায় জনঘনত্ব বেড়েছে। তাদের প্রয়োজনেই এগুলো গড়ে উঠেছে। এখন এগুলো বন্ধ করে দিলে মানুষ কোথায় যাবে? কাজেই ঢালাওভাবে সব তুলে না দিয়ে এসব বিবেচনায় নিয়ে উচ্ছেদ করতে হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর