কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৬-০৭-২৮ ২০:৫০:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


টানা ১০ দিন ধরে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও। বন্যার পানিতে ডুবে গত ২ দিনে কুড়িগ্রাম সদর ও নাগেশ্বরী উপজেলায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে দর্বিসহ জীবন যাপন করছে। নীচু এলাকার লোকজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে উচু সড়ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলেও সেখানেও পানি উঠায় আরও দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসীদের। বেশিরভাগ পরিবার এখনো ছেলে-মেয়ে ও গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কটে আছে এসব এলাকার মানুষ। তলিয়ে গেছে প্রায় ৫শ’ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছে নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার ঘর-বাড়ি।

এদিকে, কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা ব্রিজের সংযোগ সড়কটি ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ১০ গ্রামের মানুষের।

সদর উপজেলার নওদাবস চরে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানির মধ্যেই বসবাস করছে শতাধিক পরিবার। অনেক পরিবার তাদের গবাদি পশু উচু স্থানে কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এসেছে। পরপর দু‘দফা দীর্ঘ বন্যায় হাতে কাজ না থাকায় চরম অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়েছে পরিবারগুলো।

নওদাবস চরের আজগার আলী জানায়, ‘বন্যার কারনে বাড়ির হাস-মুরগী মরে গেছে। পরিবারে ৫ জনের খাবার জোটাতে হয়। হাতে কাজ নেই। ধার-দেনা করে আর কতদিন চলে। আমরাতো এ দেশেরই মানুষ। সরকার কি আমাদের দিকে নজর দিবে না!
কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কের পাশে আশ্রয় নেওয়া আবেদ আলী জানান, বাড়িতে ৭/৮ দিন কষ্ট করে থাকার পর ২ দিন ধরে পাকা সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছি। কোনও চেয়ারম্যান মেম্বারের দেখা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানায়, সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ৫শ’ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৪শ’ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ টাকার মধ্যে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সরকারিভাবে স্বল্প পরিসরে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা ভাগ্যে জুটছে না অনেক বানভাসীর। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ প্রায় সবার।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর পানি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর