ঢাকা লিট ফেস্ট প্রাণোচ্ছ্বল প্রথমদিনে
ঢাকা লিট ফেস্ট প্রাণোচ্ছ্বল প্রথমদিনে
সংগীতা ঘোষ
২০১৫-১১-১৯ ২০:৩৪:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলা একাডেমি চত্বরে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ জমেছে হরতাল, উৎকণ্ঠা এবং নানা সংকট উপেক্ষা করে। প্রথমদিনে আগতদের মনে দাগ কেটেছে দুই মঞ্চ মহারথী আলী যাকের ও আসাদুজ্জামান নূরের মঞ্চজীবনের গল্পগাঁথা।

সকালে সাহিত্যের এই বর্ণিল উৎসবের পর্দা ওঠে ঘাসফড়িং কয়ারের সুরের মূর্ছনায়। এর পরপরই প্রধান স্টেজে ওঠেন ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায এবং আহসান আকবার।

কাজী আনিস আহমেদ বললেন, বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবার-এর কাছে বোধগম্য ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাকি দুই পরিচালক গত পাঁচ বছরের পরিশ্রমের কথা জানালেন। চার আসরের ‘হে

ফেস্টিভ্যাল’ পঞ্চম আসরে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন আয়োজকরা।

এর পরই মঞ্চে উঠেন জনপ্রিয় ভারতীয় সাহিত্যিক ও একাডেমিক নয়নতারা সায়গল। উৎসবের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। ভারতের সার্বিক সাহিত্য পরিস্থিতি উঠে আসে তাঁর কথায়। এই সময়ে দেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদ নিয়ে সাহিত্যিকরা যে সম্মাননা

ও পুরস্কার বর্জন করছেন তার সমর্থনে বক্তব্য রাখেন তিনি।

এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বক্তব্য রাখেন। আসাদুজ্জামান নূর একই ছাদের নিচে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সাহিত্যিকদের একই ছাদের নিচে আনার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।

সে সময় হে ফেস্টিভ্যাল থেকে পরিবর্তিত হয়ে ঢাকা লিট ফেস্টের যাত্রা শুরু হওয়ায় অর্থমন্ত্রী এই আয়োজনকে দেশের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে তুলনা করে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বেলা ১২টায় প্রধান মঞ্চে কাজী আনিস আহমেদের সঞ্চালনায় শুর হয় প্রথম সেশন - দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ রাউন্ড। এখানে অংশ নেন ব্রিটিশ সাংবাদিক জন স্নো, নারীবাদী সংগঠন ওয়াও’য়ের প্রধান জুড ক্যালি এবং ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ।

এই সেশনে বক্তাদের আলোচনায় বিশ্বেও সার্বিক পরিস্থিতি ও তার কারণ ও পর্যালোচনা উঠে আসে।

একইসময় একাডেমি লনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ প্যারাডক্স’ শিরোনামে আরেকটি আলোচনা। সঞ্চালনায় ছিলেন হিমাল সাউথ এশিয়ার সম্পাদক অনুহীতা মজুমদার। অংশ নেন প্রশান্ত ত্রিপুরা, কাসিয়া পেপরোস্কি ও গর্গ চ্যাটার্জি। বক্তারা

এখানে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতা, ও সংখ্যালঘু সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। আফসান চৌধুরী বলেন, যা ঘটছে যা ব্যাখ্যা করা হয় তাই প্যারাডক্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দুপুওে বাংলা একাডেমির মূল মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত অভিনেতা আলি যাকের ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। অভিনেত্রী বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় দুই খ্যাতিমান অভিনেতা তুলে ধরেন তাদেও অভিনয় জীবনের গল্প। এটি

ছিলো আজকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেশন। বলে দাবি করেন। দুই অভিনেতার গল্পগুলো কখনও হাসিয়েছে কখনও কাঁদিয়েছে দর্শক-শ্রোতাদের।

এছাড়া বিকালে কবিতা পড়লেন তিন প্রজন্মেও কবিরা। রুবি রহমান, আসাদ মান্নান, নাসির আহমেদ, মুস্তাফিজ শফি থেকে শুরু করয়ে শূন্য দশকের কবিরাও এসময় নিজেদেও কবিতা পাঠ করেন। নানা আয়োজনে প্রথম দিনের আয়োজন শেষ

হয়।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে এই প্রাঙ্গণে কায়সার হক অনুদিত ‘মনসা মঙ্গল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। একই সময় পরিবেশিত হবে বেহুলার লাচারি।

এদিনই কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলবেন তার জীবনের গল্প। এছাড়াও যাত্রা শুরু করবে ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টারের তত্ত্বাবধানে লাইব্রেরি অব বাংলাদেশ। এ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত হবে হাসান আজিজুল হক ও সৈয়দ শামসুল হকের ইংরেজিতে অনূদিত দুটি গ্রন্থ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিল্প সাহিত্য এর অারো খবর