আইফোন বিক্রি কমছেই
আইফোন বিক্রি কমছেই
২০১৬-০৭-২৮ ১৮:১০:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৫-১৬ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় আইফোন বিক্রি কমেছে ১৫ শতাংশ। এ নিয়ে জনপ্রিয় আইফোন ডিভাইস বিক্রি টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মতো কমল। যদিও ২৫ জুন সমাপ্ত প্রান্তিকে পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ডিভাইস বিক্রিতে সমর্থ হয়েছে অ্যাপল। এ সময় মার্কিন কোম্পানিটির মুনাফা ও রাজস্ব কমেছে যথাক্রমে ২৭ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রান্তিক আর্থিক খতিয়ানে এমন তথ্যই জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপি।

মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের হিসাব বছর শুরু হয় অক্টোবর থেকে। সে হিসাবে এপ্রিল-জুন কোম্পানিটির জন্য তৃতীয় প্রান্তিক। চলতি হিসাব বছরের শুরু থেকেই খারাপ সময় পার করছে এ প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ কোটি ১২ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি হয়েছে। হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৪ কোটি ২ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রির পূর্বাভাস দেয়া হলেও এ সময় ৪ কোটি ৪ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি করেছে অ্যাপল। এক্ষেত্রে পূর্বাভাসের চেয়ে কিছু বেশি ডিভাইস বিক্রিতে সমর্থ হয়েছে কোম্পানিটি। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে বিক্রি ভলিউম তীব্র গ্রাহক চাহিদার বহিঃপ্রকাশ; যা আমাদের প্রত্যাশিত ছিল। যদিও আইফোন নির্মাতার পক্ষ থেকে চতুর্থ প্রান্তিকেও বিক্রি হ্রাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে আইফোন বিক্রির ভলিউম দাঁড়াতে পারে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার থেকে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে।

২০০৭ সালে প্রথম প্রজন্মের আইফোন উন্মোচন করে অ্যাপল; যা রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি যোগ করে। আইফোন উন্মোচনের পর বরাবরই প্রবৃদ্ধির ধারায় ছিল কোম্পানিটি। বৈশ্বিক বাজারে খুব কম সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আইফোন। ফলে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। স্মার্টফোন বাজারে একমাত্র আইফোন ডিভাইস দিয়েই বিক্রি ও রাজস্ব আয়ে একের পর এক নজরকারা সাফল্য দেখিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এক দশকের বেশি সময় পর প্রথমবার রাজস্ব হ্রাস পায়। আইফোন বিক্রি হ্রাসকেই রাজস্ব হ্রাসের জন্য দায়ী করা হয়।

২০১৫ সালের শেষ দিকে অ্যাপলের সাফল্যের ধারা ব্যাহত হতে শুরু করে। প্রথমবার আইফোন ডিভাইস বিক্রি হ্রাস পায়। কিন্তু সে সময় ডিভাইস বিক্রি কমলেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো রাজস্ব কমেছে অ্যাপলের। তৃতীয় প্রান্তিকেও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাজারমূল্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য আইফোন। রাজস্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসে আইফোন বিক্রি থেকে।

বিবৃতি অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের মুনাফা হয়েছে ৭৮০ কোটি ডলার, যা গত হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। এ সময় কোম্পানিটির রাজস্ব প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ২৪০ কোটি ডলার দাঁড়িয়েছে।

বৈশ্বিক বাজারে আইফোন বিক্রি কমলেও স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ভারতে বিক্রি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ইতিবাচক। জুনে সমাপ্ত প্রান্তিকে ভারতে আইফোন বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫১ শতাংশ। স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় বাজার চীনে এ ডিভাইস বিক্রি কমেছে ৩৩ শতাংশ। অথচ এক-চতুর্থাংশ আইফোনই বিক্রি হয় এ বাজারে। দেশটিতে আইফোন বিক্রি হ্রাসের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মানুষের মধ্যে ফোন আপগ্রেডের মানসিকতা না থাকাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

বিষয়টি ঘিরে অ্যাপলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা লুকা মায়েস্ট্রি বলেন, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নিম্নগতি বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছি। চীনের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বাজারটির ভবিষ্যত্ ঘিরে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।

বাজার বিশ্লেষকরা ২০১৫ সালের শুরুতেই রাজস্ব ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, এক দশকের বেশি সময় পর রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে প্রথমবার নেতিবাচক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে চলেছে অ্যাপল, যার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে। সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত থেকেছে তৃতীয় প্রান্তিকেও।

গত মঙ্গলবার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর অ্যাপলের শেয়ারপ্রতি মূল্য ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলার ৬১ সেন্টে পৌঁছেছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর